ভলান্টিয়ার প্রতিনিধি: গাজীপুর জেলার আদিবাসী কোচ জনগোষ্ঠীর খাদ্য তালিকায় ‘কুঁইচা’/’কুঁইচ্চা’ মাছ একটি জনপ্রিয় এবং স্বাস্থ্য সহায়ক খাবার। ‘কুঁইচা’ সাধারণত প্রবাহমান জলাধার, উন্মুক্ত জলাশয়, পচা পুকুর, মজা পুকুর, খাল-বিল, নদী -নালা, দিষী, ধানীজমি ও নালা জাতীয় এলাকায় বেশি পাওয়া যায়। ইদানিং বর্ষাকাল বেশিদিন স্হায়ী না হওয়ায় মাঠ-ঘাট শুকিয়ে যাওয়ার কারণে এই জাতীয় ঔষধিমাছ খুব একটা পাওয়া যায় না।
‘কুঁইচা’- “” শিকারের ক্ষেত্র হিসেবে “কোচ সম্প্রদায়” নিজ এলাকা পিঙ্গাইল গ্রামের বাহিরে যেয়ে পার্শ্ববর্তী শীতলক্ষ্যা নদী, পারুলী নদী ,লবলং সাগর, কাঠুরিয়া বিল, মকশ বিল, বেলাই বিল, চিলাই নদীতে শিকার কার্য সম্পন্ন করেন এবং উপকরণ হিসেবে টেডা, বড়শি, পাড়ন, শলা এবং নিজস্ব হস্তকৌশল হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার করেন। কোচদের শিকার সংগ্রাহক সমাজ ব্যাবস্হা আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। কোচদের ন্যায় অন্যান্য উপজাতী জনগোষ্ঠীর কাছেও ‘কুঁইচা’ খুবই জনপ্রিয় ওষধি খাবার।
তারা কঠিনভাবে বিশ্বাস করে যে এ মাছ খেলে এজমা, শারীরিক দূর্বলতা, রক্তক্ষরণ, ডায়াবেটিস, বাতজ্বর ও পাইলস ইত্যাদি রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। স্বাস্হ্য
রক্ষার ক্ষেত্রে পুষ্টিমান বিবেচনায় ‘কুঁইচা’ মাছের পুষ্টির
পরিমাণ অন্যান্য মাছের তুলনায় অনেক বেশি। উপজাতি সম্প্রদায়ের ধারণা ‘কুঁইচা’ মাছের বায়ূ-থলি তাজা কিংবা শুকনো অবস্থায় খেলে পরে এজমা এবং বাতজ্বর কমে যায়। সরেজমিনে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহকালীন সময়ে গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠদের সাথে নানা আলাপচারিতায় জানা যায় যে, ‘কুঁইচা’ মাছটি পুরানো আমেশা রোগের জন্য বিশেষ উপকারী। তাছাড়া শারীরিক নানা ধরনের বিষ-ব্যাথা থেকে আরোগ্য লাভ করতে, হজম-শক্তি বৃদ্ধিতে এবং দ্রুততার সহিত বসন্ত রোগ সারাতে মাছটি অতুলনীয়। গাজীপুর জেলার আদিবাসী কোচ সম্প্রদায়ের কাছে মাছটির ভালো চাহিদা রয়েছে। তারা আঞ্চলিকভাবে “ওষধি মাছ” হিসেবে খ্যাত এই মাছটি রোগীর জন্য পথ্য হিসেবে উদরস্ত করে থাকেন।
তথ্যসূত্র:
সিনিয়র সিটিজেন, পিঙ্গাইল ও রাণীপুর গ্রাম।
মাছের নাম কুচিয়া: https://m.somewhereblog.net
কুচে মাছ খাওয়ার উপকারিতা : https://gazivai.com
কুইচা: https://bn.m.wikipedia.org/ wiki.
লেখক: মুহাম্মদ মোশারফ হোসেন
পিএইচডি রিসার্চ ফেলো
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
ও
সহকারী অধ্যাপক
সমাজকর্ম বিভাগ, ধলাদিয়া ডিগ্রী কলেজ, গাজীপুর।
