কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ফেলানীর বাবা মায়ের চোখের পানি দেখেছি। ওটি পানি ছিল না, ওটি ছিল রক্ত। ও ফেলানী, আল্লাহ তোমাকে জান্নাত নসীব করুক। আর কোন ফেলানীকে কাটাঁতারে ঝুলেতে হবে না। প্রতিবেশিকে বন্ধু মানী, কোন গোলামী মানি না। বন্ধু থাকবে , প্রভু থাকবে না। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ায়ী) সকাল ১১ টায় কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী জনসভায় বলেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
জামায়েতের আমীর আরো বলেন, আর কোন আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করবো না। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই মিলে গড়ব বাংলাদেশ। যেখানে থাকবে না কোন বৈষম্য।
কুড়িগ্রাম বাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের কোন দাবী করতে হবে। কুড়িগ্রামের তিনটি দুঃখ। এই দুঃখ দূর করবো ইনশাআল্লাহ। নদীকে আমরা শাসন করব। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কুড়িগ্রাম থেকে শুরু হবে উন্নয়ন । কুড়িগ্রাম হবে উত্তর বঙ্গের কৃষি শিল্পের রাজধানী। কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে করা হবে আরো আধুনিক।
তিনি সাম্প্রতিক একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, একটি এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করে যা পাওয়া গেছে, তা দিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। আরেকটি দল ‘ঝাঁপায় পড় তাইরে নাইরে’ গান শুরু করেছে। তাদের ছোটরা গান গেয়েছে, পরে বড়রাও তাতে সুর মিলিয়েছে। ইতোমধ্যে ওই কালপিটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সত্য কখনো মেঘের আড়ালে ঢাকা থাকে না।
আবরার ফাহাদ প্রথমে শাহাদৎ বর করেছিল। তার রাস্তা ধরে আবু সাঈদ মুগ্ধ শহীদ হন। সর্বশেষ শরীফ ওসমান হাদীসহ তারা ১৪০০ জন শহীদ হয়েছেন। এই ১৪০০ বীরের লাশ এখন এই জাতির ঘাড়ে। শহীদদের রক্তে তারা আমাদের নদীগুলোে লাল করে দিয়েছে। আমরা কথা দিচ্ছি আমরা এই শহীদদের সাথে বেঈমানী করব না।তাদের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করবনা, তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমরা লড়ে যাব ইনশাআল্লাহ।
এর পর কুড়িগ্রামের চারটি আসনের প্রার্থীদেরকে দলীয় ও জোটের প্রতিক তুলে দিয়ে জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। জামায়েতের আমীর নিজেই স্লোগন তুলেন এবং গণভোটের পক্ষ্যে ভোট চান। তিনি আরো বলেন, হ্যাঁ ভোটে আজাদী, না ভোটে গোলামী।
১১ দলীয় নির্বাচনী জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন সহ জোটের অন্যান্য জাতীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
