ভলান্টিয়ার (ঢাকা) প্রতিনিধি: গত এক সপ্তাহ যাবত সারা দেশে গ্যাস এবং বিদ্যুতের যে সংকট তৈরি হয়েছে তার কারণ খুঁজতে সরকার এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে ভোক্তা প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তি স্টেক হোল্ডার, নাগরিক বিশেষজ্ঞ দের সমন্বয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ। আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট রাশেদুল হাসান বলেন, গ্যাস এর সিস্টেম লস এর নামে চুরি দুর্নীতি বন্ধ করা না গেলে উচ্চ মূল্যে বিদেশ থেকে এলেজি আমদানি করে গ্রাহকদের কাছ থেকে চড়া মূল্য আদায় করলেও সুফল মিলবে না।
গত দুই বছর যাবত স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি না করেও দেশীয় উৎপাদন সেই সাথে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে আনা এলএনজি দিয়ে দেশের গ্যাস সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সহ শিল্প প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে সরকার। গত ২১-২৪ মার্চ গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন যে গণ শুনানি করে সেখানে নাগরিক প্রতিনিধি হিসেবে আমরা উপস্থিত হয়ে বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিচার বিবেচনা করে গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে পাঁচ শতাংশ স্পট মার্কেটের গ্যাস আমদানি বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেছিলাম। কারণ কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির হিসাব মতে সাড়ে ৮ শতাংশ গ্যাস সরবরাহে সিস্টেম লস রয়েছে।
আমাদের যুক্তি ছিল যদি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যায় এবং সিস্টেম লস কমিয়ে দুই শতাংশের মধ্যে আনা যায় তাহলে উচ্চমূল্যের গ্যাস আমদানি প্রয়োজন পড়বে না। একই গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ছিল এবং সরকার সারা দেশের শতভাগ বিদ্যুতায়িত করতে পেরেছিল অথচ দুঃখের বিষয় গত পাঁচ জুন এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন দাম বৃদ্ধির আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রতি ঘনমিটার ৯.৭০ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে ১১. ৯১ টাকা অর্থাৎ ২২. ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি করে। একই সাথে বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকে আমরা লক্ষ্য করলাম অবৈধ সংযোগ কাটার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাস্তব চিত্র হল গত এক সপ্তাহ যাবত কম গ্যাস সরবরাহের অজুহাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে প্রায় ২৫০০ থেকে ৩০০০ মেগাওয়াট। পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা বর্তমানে সবচাইতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বাসা বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ দিনের অধিকাংশ সময়ে থাকছে না। বিষয়টি এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে আমরা অবগত করলে তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আমরা লক্ষ্য করলাম বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৪৫০ এমএমসি গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে।
আমাদের প্রশ্ন যেখানে দেশে ২৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় বলা হচ্ছে, তার বিপরীতে চাহিদা রয়েছে মাত্র ১০ থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াট। এবং যে পরিমাণ গ্যাস সর্ব রকম হচ্ছে তার ফলে মাত্র ৫০০ থেকে ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম উৎপাদন হওয়ার কথা। এখানে প্রশ্ন অবশ্যই থেকে যায় তাহলে সংকট টা কোথায়? আমরা মনে করি অবৈধ সংযোগ আর চুরি লুটপাট বন্ধ না করা গেলে জনগণের উপর উচ্চমূল্য চাপিয়ে দিয়ে বিদেশ থেকে সর্বোচ্চ মূল্যের এলএনজি আমদানি করেও স্বাভাবিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না। বর্তমান উন্নয়নের ধারাবাহক সরকার ও জনগণের মধ্যে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে যা সরকার এবং রাষ্ট্রের জন্য সুখকর নয়।
তাই শতভাগ বিদ্যুতায়নের ও উন্নয়ন এর ধারক ও বাহক সরকারের প্রতি আমাদের দাবি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের পক্ষ থেকে এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের পক্ষ থেকে ভোক্তা প্রতিনিধি, স্টেক হোল্ডার, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরী বলে আমরা মনে করি। দেশের সেই সাথে গ্যাসের চুরি অর লুটপাট বন্ধ করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
