লেখক: আমিনুল ইসলাম

ট্রা*ম্প একটু আগে নিজের সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে লিখেছে

– আমি ই*জ*রাইল এবং লেবাননের মাঝে ১০ দিনের যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করছি।

কেমন আজব পৃথিবীতে আমাদের বসবাস। ই*জ*রাইল আর লেবাননের মাঝে যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করছে অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রা*ম্প! অবশ্য কারনও আছে।

আজ ঘণ্টা চারেক আগে পেন্টাগন একটা প্রেস কনফারেন্স করেছে । বিগত দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে আমি পেন্টাগনের প্রেস কনফারেন্সগুলো পর্যবেক্ষণ করছি। এত লম্বা সময় ধরে এর আগে কখনো কোন প্রেস কনফারেন্স হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।

তো, প্রেস কনফারেন্সে ওদের সামরিক বাহিনীর সকল বড় কর্তারা উপস্থিত ছিল। সেই সাথে উপস্থিত ছিল ডিফেন্স সেক্রেটারি হেগসেথ। তো, প্রথমে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর অফিসাররা দেখিয়েছে- কীভাবে হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে রেখেছে অ্যামেরিকা। অর্থাৎ অ্যামেরিকা সেখানে শক্তি বৃদ্ধি করেছে ইত্যাদি। মূলত ওদের ক্ষমতা দেখাতে চেয়েছে ।

এরপর ডিফেন্স (পড়ুন যুদ্ধ) সেক্রেটারি হেগসেথ বলেছে

– Iran should make a deal, or we will strike hard. (ইরানকে চুক্তি করতে হবে, না হলে আমরা কঠোরভাবে আঘাত হানব)

এর আগে অবশ্য এডমিরাল কুপার বলেছে

– আরব দেশগুলোর সাথে আমাদের সামরিক বাহিনীর খুব ভালো যোগাযোগ আছে। আমি বাহরাইনে গিয়েছিলাম দুই দিন আগে। বাহরাইনের রাজা তো আমাদের সৈন্যদের নাম পর্যন্ত জানে।

চিন্তা করতে দেখেন এই আরব দাসগুলোর অবস্থা! এরা মনে হয় না আর কোন দিন সভ্য হবে। এদিকে পাকিস্তানী বেশ কিছু গণমাধ্যম আজ বলছে

– অ্যামেরিকা যুদ্ধবিরতির সময় আরও বাড়াতে চায়। এ জন্যই পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর প্রধান ইরানে গিয়েছিল গতকাল।

যদিও হোয়াইট হাউজ আজ এটি অস্বীকার করেছে।  তবে হোয়াইট হাউজ বলেছে

– We are hopeful for a deal. (অর্থাৎ আমরা একটা চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী)

পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে- ট্রা*ম্প ইরান যুদ্ধ থেকে বের হতে চাইছে। এই জন্য আজকে পেন্টাগনে এত লম্বা একটা প্রেস কনফারেন্স করা হয়েছে। ইরানকে বুঝাতে চাইছে চুক্তি করো, নইলে কিন্তু আমরা রেডি আছি আঘাত করতে। এদিকে আল-জাজিরার সাংবাদিক আলী হাসেমকে প্রশ্ন করা হয়েছে

– ইরান কি চুক্তি করবে?

আলী হাসেম উত্তরে বলেছে

– আমি ইরানের নেতাদের কাছ থেকে যা শুনছি ; এতে মনে হচ্ছে ইরানিরা  অ্যামেরিকার প্রতি mistrust (অবিশ্বাসে) ভুগছে। কারন লেবাননে এখনও যুদ্ধ বন্ধ হয় নাই। ইরানের জব্দ করা টাকাও অ্যামেরিকা এবং এর মিত্র দেশগুলো এখনও ছাড়ে নাই।

হয়ত এর প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ট্রা*ম্প আজ লেবাননে যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করেছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট এবং হে*জ*বুল্লাহ থেকে এই যুদ্ধ বিরতিকে স্বাগত জানানো হলেও হে*জ*বুল্লাহ বলেছে

– আমরা আগে দেখতে চাই ই*জ*রাইল কী করে।

যা হোক, এখনও চার ঘণ্টা বাকি আছে যুদ্ধ বিরতি শুরু হবার। ই*জ*রাইল কী করে; সেটা এখন দেখার বিষয়। এদিকে আজকের প্রেস কনফারেন্সে মার্কিন প্রেস সেক্রেটারি হেগসেথ বলেছে

– আমরাই এখন হরমুজ প্রণালি কন্ট্রোল করছি। এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

এর ঠিক কিছুক্ষণ পরই ব্রিটিশ টেলিভিশন স্কাই নিউজের সামরিক বিশেষজ্ঞ শন বেল বলেছে

– অ্যামেরিকার মানুষ ছাড়া পুরো পৃথিবীর কারও এটা বিশ্বাস করার কোন কারন নাই।

এরপর প্রশ্ন করে বলেছে

– অ্যামেরিকা যদি কন্ট্রোলই করে, তাহলে সেখান দিয়ে কোন জাহাজ যাতায়াত করছে না কেন?

ব্রিটিশ টেলিভিশন কিংবা পত্রিকাগুলো যখনই পড়ছি, মনে হচ্ছে আজকাল ওরা  আর অ্যামেরিকার কোন কথাই বিশ্বাস করছে না! এদিকে চীন আজকেও অ্যামেরিকার হরমুজ অবরোধের সমালোচনা করে বলেছে

– We cannot have the rule of the jungle. ( অর্থাৎ আমরা জঙ্গলের আইন মেনে চলতে পারি না।)

সামরিক বিশেষজ্ঞ শন বেল বলেছে

– হেগসেথ যতই চিৎকার চেঁচামেচি করুক প্রেস কনফারেন্সে। এটি এখন পরিষ্কার- Iran has more leverage than ever. ( ইরানের এখন আগের চেয়ে বেশি প্রভাব বা সুবিধা রয়েছে)

আজকের লেখাটা আর বড় করছি না। তবে আজকের যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বলতেই হচ্ছে

– Time is on Iran’s side ( সময় এখন ইরানের পক্ষেই রয়েছে)

সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকা এখন ইরান থেকে পালানোর পথ খুঁজছে। কিন্তু পথ ওরা অনেক আগেই হারিয়েছে। এখন ওরা গন্তব্যও আর খুঁজে পাচ্ছে না। ইরান অবশ্য ওদের গন্তব্য খুঁজে পেয়েছে। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। অ্যামেরিকা ঠিকই এক সময় পালিয়ে যাবে এই অঞ্চল থেকে। ইরান, ইরানের জায়গাতেই থাকবে। হরমুজও একই জায়গায় থাকবে। স্রেফ এখন থেকে প্রণালিটা ইরানই কন্ট্রোল করবে।