নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের তালপাড়া গ্রামের মন্ডলবাড়ি, বংশ পরম্পরায় এই পরিবারের রয়েছে নানান ঐতিহ্য। এই পরিবারে বসবাস করেন প্রায় ৮৫ বছর বয়সের এক প্রবীণ শিক্ষক রফিকুল ইসলাম।

রফিকুলের ৫ ছেলের মধ্যে ৩ ছেলের কর্মস্থল ঢাকায় ২ ছেলের চায়নাতে। বিভিন্ন ছুটির সময় সন্তানেরা বাড়িতে আসলে মন দেন সামাজিক কর্মকাণ্ডে। নিজ উদ্যোগে তারা এলাকার বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াও নির্মাণ করেছেন, মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থান। এলাকায় জুড়ে এই পরিবারের রয়েছে সুনাম-সুখ্যাতি। সেই খ্যাতি এখন তাদের জীবনে দাঁড়িয়েছে কাল হয়ে।

এই মন্ডল পরিবারের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে এলাকার কতিপয় কুচক্রী মহল তৈরী করেছেন নানান ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা গল্প। সম্প্রতি রফিকুল ইসলামের সম্মানহানির উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল দাবি করেন তিনি কবরস্থানের জমির উপর বাড়ি নির্মাণ করেন। এই নিয়ে এলাকায় শুরু হয় নানা গুঞ্জন। শত্রুতার জেরে কেউ কেউ গণমাধ্যমে মিথ্যা সাক্ষাৎকার দেন।

সরেজমিনে তদন্ত করে দেখা যায়, রফিকুল ইসলাম বাড়ির সাথে সংযুক্ত রয়েছে একটি পারিবারিক কবরস্থান। যা ছিল মাগুরা মৌজার এসএ ২৯১ খতিয়ানের ৮৮৬৮ দাগে মোট ১৯ শতকের মধ্যে ৪ শতক জমির উপর পূর্বপুরুষদের ওয়াকফ্কৃত।

কবরস্থানটির পূর্ব ও উত্তর দিকে রয়েছে গ্রামীণ পাকা রাস্তা। ফলে জমির পরিমান ৪ শতাংশ হলেও রাস্তা নির্মাণের সময় গ্রামীণ পাকা রাস্তা হওয়ার কারণে ০.৪৮ (শূন্য দশমিক চার আট) শতাংশ জমি উভয় রাস্তার মধ্যে ঢুকে পড়ে।

বর্তমান সরকারি মাপজোখ অনুয়ায়ী কবরস্থানে জমি রয়েছে ৩.৫২ ( তিন দশমিক পাঁচ দুই) শতাংশ। কবরস্থানটি সুরক্ষার ও সকলের সুবিধার্থে নিজ অর্থায়নে চারদিকে পাকা প্রাচীর দিয়ে বেষ্টিত রেখেছেন রফিকুল ইসলাম জনহিতৈষী পরিবার। পাশাপাশি শিক্ষক রফিকুলের সন্তানেরা কবরস্থানের পূর্বদিকে মসজিদ ও ভবিষ্যৎ বংশধরদের কবরস্থ করার জন্য সম্প্রসারিত কবরস্থান নির্মাণ করেছেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে, ওই এলাকার জাকির হোসেন, আবুল হোসেন, লেবু মিয়া, সাদ্দাম হেসেন জানান, কবরস্থানটির ২ দিকে পাকা রাস্তা সংলগ্ন হওয়া হাফ শতাংশেরও কম জমি রাস্তায় চলে যায়, মন্ডল বাড়ির সাথে কবরস্থানের জমি কমবেশির কোন সম্পর্ক নেই। এটা একসময় কিশোরগঞ্জের সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) বদর আমিন দিয় সরেজমিন করে হাত নকশা প্রনয়ণ করেছেন। এতে দেখা যায় মন্ডলবাড়ি তার নিজস্ব জায়গায় রয়েছে। বরং বাড়ি করার সময় কবরস্থানের দিকে তারা প্রয়োজনীয় সংখ্যক জমি ছেড়ে দিয়েছেন।

প্রবীণ শিক্ষক ও মন্ডলবাড়ির প্রধান রফিকুল ইসলাম এবিষয়ে জানান, আমরা কবলা অনুযায়ী যে জমি পেয়েছি, সেই অংশেই বসবাস করছি যা পরবর্তীতে সরকারি সার্ভেয়ার ও আমিনদের মাপজোখেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আমরা আল্লাহর রাস্তায় দান করতে সবসময় প্রস্তুত। আমার সন্তানদের ভালো কাজ দেখে যারা আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে, আমি তাদের বিচার চাই। তারা অনেকেই অন্যায়ভাবে আমার জমি দখল করেছে, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। যারা ভূমিদস্যু ও মামলার আসামী তারাই এসব ষড়যন্ত্র করছে।

এ বিষয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো ভূমিদস্যুতার অভিযোগে অভিযুক্ত ওই এলাকার স্বাধীন হাসান (২৬) নামের ব্যক্তির সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে মাগুড়া ইউপি সদস্য আহাদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মন্ডলবাড়িতে কবরস্থানের জমি আছে কিনা আমি নিশ্চিত নই। জমিটা যেদিন মাপজোখ হয় আমাকে জানানো হলেও আমি সেদিন অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম। যেতে পারিনি।