ভলান্টিয়ার প্রতিনিধি: পবিত্র কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য ইসলামিক শরিয়া মোতাবেক অসহায় ,সহায় সম্বলহীন দরিদ্র মানুষের। কিন্তু বিগত কয়েক বছর যাবত চামড়ার মূল্যের অংশ কি দরিদ্র জনগোষ্ঠী পাচ্ছে? এমন আশঙ্কা , ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন চামড়ার মূল্য অসহায় সম্বলহীন দরিদ্র মানুষেরা না পাওয়ায় বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ ‌। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের আহবায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বরাবরের ন্যায় এবারও চামড়ার ন্যায্য মূল্যের প্রাপ্ত অর্থ থেকে বঞ্চিত অসহায় দরিদ্র মানুষেরা। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে প্রডাক্ট অফ দা ইয়ার স্বীকৃতি পায় চামড়ার শিল্প।

বর্তমানে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি শিল্প এ খাত। ইতিমধ্যে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের চামড়া শিল্পের রপ্তানি কারক দেশের মধ্যে দশম স্থান অধিকার করতে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ। ‌ ২০২৪ সালের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ বিলিয়ন ডলার যা মোট জিডিপির এক শতাংশ। ঈদের আগের সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে পশুর চামড়া গত বছরের চাইতে সাত টাকা প্রতি বর্গফুটে বেশি নির্ধারণ করে দেয়।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে গতকাল বিকেল এবং আজ বৃহৎ চামড়ার বাজার পুস্তায় চামড়ার দাম মাঝারি সাইজের গরুর ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা। আর বড় সাইজের গরুর চামড়া ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। সবচাইতে অবাক করার বিষয় কোরবানি দাতার কাছ থেকে চামড়া কিনতে কোন ব্যক্তিকে এখন আর পাড়া মহল্লায় দেখা যায় না। হলে পাড়া মহল্লার অলিগলি অথবা রাস্তায় ফেলে রাখতে হয় না হলে মাদ্রাসার নাম করে যারা চামড়া তুলে তাদেরকে বিনামূল্যেই দিয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট সফল হয়েছে এ কথা নিশ্চিত করে বলা যায়। আর অন্যদিকে লাভবান হয়েছে বিনামূল্যে মাদ্রাসার নামে যারা চামড়া সংগ্রহ করে ‌। কিন্তু প্রকৃত হকদার ছিল সহায় সম্বলহীন অসহায় দরিদ্র মানুষেরা।

চামড়ার প্রকৃত মূল্য না পাওয়া গেলেও ফিনিশড চামড়ার তৈরি জুতা এবং ব্যাগের মূল্য আকাশছোঁয়া ‌। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায় কাঁচা চামড়ার মূল্য নিয়ে একটি অস ৎ উদ্দেশ্য হাসিল করা হচ্ছে নাকি? সরকার এ ব্যাপারে প্রয়োজন উদ্যোগ গ্রহণ না করে নিষ্ক্রিয়তা প্রদর্শন কেন করছে সেটিও আমাদের কাছে বোধক্য নয়। সেসব শ্রেণীর সব সময় দরিদ্র মানুষের হক শোষণ করেই পুঁজিবাদী হয়। এটা আরেকবার পরিষ্কার হলো।

বাংলাদেশ ৯৫ ভাগ মুসলিম নাগরিক হওয়ায় দিন দিন পশু কোরবানির পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন হিসাব মতে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ পশু কোরবানি হয় ঈদুল আযহায়। বিশাল চামড়া থেকে যেখানে কয়েক হাজার কোটি টাকা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিলে দেয়া যেত তার কোন সুষ্ঠু নীতিমালা বা পর্যবেক্ষণ সরকারের না থাকার অসৎ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে অসাধক ব্যবসায়ী এবং অসাধু কিছু ব্যক্তি। আমরা আশা করব সরকার দ্রুত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাদের প্রাপ্য হক তাদেরকে তাদের প্রাপ্যতা বুঝিয়ে দেওয়ার।