ভলান্টিয়ার প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম সার্কেলের আওতাধীন চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের চুনুতি রেঞ্জের বনভূমি মুলত লোহাগড়া উপজেলার চুনুতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত। পাহাড়, ঠিলা, সমতলভূমি, ছড়া, ঝর্না ও বনবনানী পরিবেষ্টিত এলাকার ভুমি বনসম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক এ বন যেমন জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল হিসেবে প্রসিদ্ধ ঠিক তোমনই দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এর অবদান অসামান্য।
কূল কূল ধ্বনীতে ছুটে চলা পাহাড়ি জলধারা, বনের নির্জনতায় সৃষ্ট ঝর্ণার নিরন্তর গতিপথের এক নান্দনিক প্রবাহ, যার কিনারা ছুয়ে ছুয়ে নেমে আসে গুল্মলতা, ঘাস ও জীবনের বৈচিত্র্যময়তা। ছুটে চলা বন্য জীবজন্তু ও পাখিদের প্রানোচ্ছল প্রাকৃতিক চটুলতায় বিমোহিত ছিল নান্দনিক প্রানময়তা। নিবড় বনের সৌন্দর্যে চারদিকে নিরবতার সীমাহীন আকুলতা।
সময়ের পরিক্রমায় বনের উপর পড়েছে ক্ষমতার লোলুপ দৃষ্টি। সরকারী সংশ্লিষ্টতার লাগামহীন মদদে, বিবেক বিবর্জিত মানুষেরা পাহাড়, বন ও প্রকৃতির সৌম্যতাকে বিপর্যস্থ করে জবরদখল নামক কালো থাবায় গ্রাস করেছিল সম্মোহনি সৌন্দর্য ও সৌকুমার্য।
পরিবর্তিত বাস্তবতায় গর্জে উঠেছে বনবিভাগ। জবরদখল কারীদের দুঃস্বপ্নকে সত্যি করে বিলীন করে দেয়া হয়েছে আগ্রাসী কালোহাতের পৈশাচিকতাকে। সাধের মৎস্য খামার, পানের বরজ, দখলী নানান কাজের সবকিছু গুড়িয়ে বিলীন করে উদ্ধার করা হয়ছে প্রায় ৫০ একর সংরক্ষিত বনভূমি।
বনভূমি মুক্ত করে বন্যপ্রকৃতি, প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেম ও জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল ফিরিয়ে আনার এ সংগ্রাম, নিরন্তর অভিযান অব্যাহত থাকবে ইনশাল্লাহ।
তথ্য:
ড. মোহাম্মদ মোল্লা রেজাউল করিম
বন সংরক্ষক
চট্টগ্রাম অঞ্চল
বন অধিদপ্তর
