লেখক: অধ্যক্ষ শাহজালাল সবুজ
*১৯. উন্নত ও যুগোপযোগী ক্যারিয়ার গঠন*
ক্যারিয়ার: Career অর্থ- দ্রুত গতি, বেগ, জীবনের ধারা, জীবনের পথে অগ্রগতি, জীবনায়ন বিকাশক্রম, জীবিকা অর্জনের উপায় বা বৃত্তি।
• P.H. Collin বলেন, Career means a job which you are trained for and which you expect do all your life.
অর্থাৎ ক্যারিয়ার হল এমন একটা কাজ যার জন্য তোমাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং তুমি সারা জীবন এ ধরনের কাজ করে যাওয়ার আশা কর।
• Cambridge international dictionary of English এ ক্যারিয়ার এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে,” শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে অর্জিত এমন কর্ম যেখানে ব্যক্তির সমগ্র কর্মজীবনে গুণগত ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি আসে।”
যুবকদের উপযোগী ক্যারিয়ার: আমাদের দেশে যুবকদের ক্যারিয়ার গঠনের জন্য বিভিন্ন সেক্টর বিরাজমান। এদের মধ্যে থেকে নিজ নিজ যোগ্যতা, দক্ষতা, ভালোলাগা,আগ্রহ, ইচ্ছাশক্তি অনুযায়ী ক্যারিয়ার বেছে নিতে হবে। আমাদের দেশে বিরাজমান কয়েকটি ক্যারিয়ার তুলে ধরা হলো-
• নির্বাহী বিভাগ (সচিব , আমলা)
• শাসন বিভাগ (ডিসি ,এসপি)
• বিচার বিভাগ (বিচারক)
• সেনাবাহিনী
• ডাক্তার
• ইঞ্জিনিয়ার
• আইনজীবী
• সাংবাদিকতা
• ব্যবসায়ী
• উদ্যোক্তা।
*দক্ষতা:*
দক্ষতা (Skills)) অর্জন ছাত্রজীবনেই পরবর্তী জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল দক্ষতা অর্জন করা দরকার। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকে পারদর্শিতাই যথেষ্ট নয়। এর বাইরে যেসব Skills বর্তমান প্রতিযোগিতামুখর কর্মজীবনে টিকে থাকার জন্য দরকার তার কয়েকটি আমি তুলে ধরছি।
• Language skill ইংরেজিতে ভালো করা ছাড়া বর্তমান দুনিয়ায় এগোনো সম্ভব নয়।
• Carreer Oriented skill যে Profession বা Career আপনি Choose করবেন ছাত্রজীবন থেকে সেসব Career প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গের সংস্পর্শে যেতে হবে। আরো বাস্তব পরামর্শ গ্রহণের জন্য।
• Computer skill- আধুনিক সমাজে চলার জন্য কম্পিউটারে দক্ষতা বিশেষত ইন্টারনেট ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই।
• Communication/Expression skill- বা ভাব প্রকাশের যোগ্যতা সকল ক্ষেত্রের জন্য একটি মৌলিক যোগ্যতা। আমরা যা শিখি তা ভালো করে শিখতে হবে- যাতে শেখানো যায়। এ ক্ষেত্রে অল্প শব্দে এবং কম কথায় কোন বিষয়কে পরিপূর্ণভাবে, সহজ Articulated way তে ও আকর্ষণীয় রূপে, উপস্থাপন করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে
*২০. বেকারত্ব দূর করা :*
কথায় বলে ‘অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা’। যুবসমাজ বেকার থাকলে তারা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়বে। তাই তাদেরকে বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ, যোগ্য ও কর্মঠ করে গড়ে তুলতে হবে এবং তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে তবেই দেশ হবে দারিদ্র্যমুক্ত ও জাতি হবে উন্নত। এছাড়াও বেকারত্ব দূরীকরণে নিম্নোক্ত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা যেতে পারে-
√ কারিগরি/কর্মমুখী বা বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ করা।
√ যুব সমাজকে উপযুক্ত প্রশিক্ষন দিয়ে দক্ষ কর্মী তৈরী করতে হবে এবং স্ব-স্ব পেশায় দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
√ টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ (টিএসসি), টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সমাজ কল্যাণ বিভাগ, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আত্নকর্মসংস্থানের প্রকল্প রয়েছে। এতে জনশক্তিদের বাছাই করে পরিকল্পিতভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে।
√ উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে তৈরি করা।
ধারাবাহিক আলোচনা চলবে…..
