ভুরুঙ্গামারী প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় মেয়াদ উত্তীর্ণ ১৪০ বছরের সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় ভারি যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
বুধবার (১ জুলাই ) সকালে সোনাহাট সেতুর স্টিলের অংশের পাটাতন ভেঙে একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক আটকে যায়। এতে ট্রাকসহ সব ভারি যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে করে সেতুর দুই পাড়ে যানবাহনের লম্বা সারি দেখা গেছে। সেতুটি দীর্ঘ দিনের পুরানো ও মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছিল বিভিন্ন যানবাহন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেতুটির বিভিন্ন স্থানে পাটাতন ভেঙে গেছে এবং ট্যাংক জাম (লোহার পাতি) খুলে গেছে। তবুও জীবন জীবিকার তাগিদে এতদিন ঝুঁকি নিয়েই চলছিল যানবাহন।
নির্মাণকালে সেতুটির আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়ে ছিল ১০০ বছর। সেই মতে সোনাহাট সেতুর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে ৪০ বছর আগেই। নড়বড়ে সেতুটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়ে ঘটতে পাড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বন্ধ হয়ে যেতে পারে সোনাহাট স্থল বন্দরের যাবতীয় কার্যক্রম।
ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতুটি পাশে দুধকুমার নদের দক্ষিণে মোট প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সোনাহাট সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। ওই সেতুটির নির্মাণকাজের মেয়াদ ২ বছর ধরা হলেও ৮ বছরেও শেষ করতে পারেনি কৃর্তপক্ষ। তাই সেতুটির কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি স্থানীয়দের।
সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানী ও রপ্তানীকারক ব্যবসায়ী আবু হেনা মাসুম জানান, নিয়মিত সেতুর পাটাতন ভাঙে আর সড়ক বিভাগ সেটি মেরামত করে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতু দিয়ে যদি পণ্যবাহী গাড়ি না চলে, তাহলে স্থলবন্দরের আমদানি ও রপ্তানী কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে সরকার বিপুল পরিমানে রাজস্ব হারাবে।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেবনাথ জানান, সেতুটি দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। ওভার লোড বহনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী
মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, সেতুটি মেরামতের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মেরামতের কাজ করে খুব দ্রুত যানচলাচলের জন্য স্বাভাবিক করা হবে।
