কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : হিমালয়ের বরফঢাকা পাহাড় পেরিয়ে শীতের অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে আসা একটি হিমালয়ান গৃধিনী শকুন এবার আশ্রয় নিয়েছিল কুড়িগ্রামের রাজারহাটের লোকালয়ে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের হরিশ্বরতালুক এলাকায় শকুনটিকে দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি উদ্ধার করেন। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য শকুনটিকে পাঠানো হয়েছে রংপুরে। শুক্রবার বন বিভাগে শকুন হস্তান্তরের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়,উপজেলার হরিশ্বর তালুক এলাকায় শকুনটিকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা এবং গ্রীন ভিলেজ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম রশিদ আলী বন বিভাগে খবর দেন। রাজারহাট বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে শকুনটি উদ্ধার করেন। পরে সেটিকে নেওয়া হয় কুড়িগ্রাম রেঞ্জ কার্যালয়ে।
রাজারহাট বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে শকুনটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে হিমালয়ান গৃধিনী শকুন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। শীত মৌসুমে হিমালয় অঞ্চল থেকে কিছু শকুন বাংলাদেশে আসে। উদ্ধার করা শকুনটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাদিকুল ইসলাম বলেন, রাজারহাট থেকে উদ্ধারের পর শকুনটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরবর্তী চিকিৎসা, পরিচর্যা ও সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা নিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সেটিকে রংপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
বন বিভাগ জানায়, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসার সময় কোনো কোনো পরিযায়ী শকুন দুর্বল বা ক্লান্ত হয়ে লোকালয়ে আশ্রয় নিতে পারে। তাই এ ধরনের পাখি দেখতে পেলে ভিড় করে বিরক্ত না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ, আহত বা বিপদগ্রস্ত কোনো বন্যপ্রাণী দেখলে নিজে ধরার পরিবর্তে দ্রুত বন বিভাগকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে বন বিভাগ।
