ভলান্টিয়ার (রংপুর)প্রতিনিধি: একটি সুন্দর মুখ। সেই সুন্দর মুখের প্রতিছবি, যার হাসিতে ঝরে পড়ে মুক্তদানা। ক্লান্তিহীন নিরলস পরিশ্রমী ব্যক্তিটি স্কাউট আন্দোলনের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে অনন্য অবদান রেখেই চলছেন। তারেই স্বীকৃতি স্বরূপ- সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড – ” রৌপ্য ব্র্যাঘ্র ” ভূষিত হোন তিনি।
রংপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক, রংপুর জেলা স্কাউটস এর সাবেক কমিশনার, বাংলাদেশ স্কাউটস দিনাজপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক উপকমিশনার প্রশিক্ষণ কে, বাংলাদেশ স্কাউটস এর সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড “রৌপ্য ব্যাঘ্র’’ পদকে ভূষিত করা হয়েছে। (২৭ জুন) সোমবার বিকেল ৫ টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ স্কাউটস এর ৫০ তম বার্ষিক সাধারণ সভায় ভার্চুয়ালে যুক্ত হয়ে ” মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চীফ স্কাউটস মোঃ আবদুল হামিদ ” এ পদক প্রদান করেন। বাংলাদেশ স্কাউটস এর সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। মোঃ সিদ্দিকুর রহমান ১৯৬৪ সালের ১লা জানুয়ারি রংপুর শহরের মুন্সি পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম শহীদুর রহমান, মাতা মরহুমা সিদ্দিকা খানম। বিবাহিত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক। স্ত্রী মাফরুহা আক্তার কেয়া (সরকারি শিক্ষিকা)। দুই মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যয়নরত। তিনি রংপুরের মুন্সিপাড়া পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু করে রংপুর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি, কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স, এম কম হিসাববিজ্ঞান, এবং রংপুর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ও এমএড ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি রংপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক হিসাবে কর্মরত আছেন। মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, রংপুর জিলা স্কুলে অধ্যয়ন কালে ১৯৭৪ সালে বয়স্কাউট হিসেবে দীক্ষা গ্রহণ করেন।

স্কুলের স্কাউট দলের ট্রুপ লিডার হিসাবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮০-১৯৮২ সালে কারমাইকেল কলেজে রোভার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় জেলা, আঞ্চলিক ও জাতীয় সমাবেশ, রোভার মুটে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালে স্কাউট লিডার বেসিক কোর্সে অংশগ্রহণ করে বয়স্ক নেতা হিসাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। অ্যাডভান্সড কোর্স ও উপজেলা স্কাউট লিডার কোর্স সম্পন্ন করে ১৯৯০ সালে উডব্যাজ প্রাপ্ত হন। ১৯৯২ সালে প্রাক এএলটি, ১৯৯৪ সালে এনটিসি সম্পন্ন করে ১৯৯৬ সালে এএলটির দায়িত্ব গ্রহন করেন। ২০০০ সালে সিএলটি কোর্স সম্পন্ন করে ২০০৩ সালে এলটি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহন করেন। তিনি দীর্ঘদিন স্কাউটিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থেকে ১৯৮৯ সালে ন্যাশনাল সার্টিফিকেট, ১৯৯৭ মেডেল অব মেরিট, ২০০৩ লং সার্ভিস ডেকোরেশন, ২০০৭ বার টু দি মেডেল অব মেরিট, ২০০৯ সিএনসি অ্যাওয়ার্ড ২০১২ সভাপতি অ্যাওয়ার্ড এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশ স্কাউটসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড “রৌপ্য ইলিশ” প্রাপ্ত হন। মোঃ সিদ্দিকুর রহমান রংপুর উচ্চ বিদ্যালয় স্কাউট ইউনিট, উপজেলা, জেলা, অঞ্চল ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দক্ষতা, নিষ্ঠা ও অন্তরিকতার সাথে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন। নিজ ইউনিটে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ১৯৯০- ১৯৯৩ উপজেলা স্কাউট লিডার ১৯৯৩- ২০০২ জেলা স্কাউট লিডার ২০০২-২০০৬ জেলা স্কাউট নির্বাহী সদস্য, রাজশাহী আঞ্চলিক স্কাউটস এর লিডার ট্রেনার প্রতিনিধি ২০০৮- ২০১১ নব-গঠিত দিনাজপুর আঞ্চলিক স্কাউটসের আঞ্চলিক উপ-কমিশনার (প্রশিক্ষণ) ২০১১-২০১৭ আঞ্চলিক প্রতিনিধি হিসাবে জাতীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য হিসাবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫- থেকে ২০২১ রংপুর জেলা স্কাউটস এর কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দিনাজপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক উপ-কমিশনার (প্রশিক্ষণ) হিসেবে ২০২১ থেকে অদ্যবধি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি রংপুরের তামপাটে বাংলাদেশ-অষ্ট্রেলিয়া শিশু স্বাস্থ্য প্রকল্প (বাক প্রকল্প), স্যালাইন তৈরী প্রকল্পে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আন্তজার্তিক ও জাতীয় পর্যায়ে জাম্বুরী, ক্যাম্পুরী, কমডেকা এবং অঞ্চল, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমাবেশ ও ক্যাম্পুরী বাস্তবায়নে সক্রিয় অবদান রাখছেন।

বাংলাদেশ স্কাউটস এর প্রশিক্ষণ বিভাগের আয়োজনে ওরিয়েন্টেশন, বেসিক, অ্যাডভান্সড, স্কিল, সিএএলটি, সিএলটি, ট্রেনার্স অ্যাডভান্সডমেন্ট কোর্স ও আইসিটি কোর্সে প্রশিক্ষক ও কোর্স লিডার হিসাবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছেন। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্দেশিত সকল দায়িত্ব যথাযথ পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ বেতারের নগর সংবাদদাতা ও রংপুর প্রেস ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সুদীর্ঘ ৪৮ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ এই প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড “” রৌপ্য ব্র্যাঘ্র “” আলহামদুলিল্লাহ।