ভলান্টিয়ার প্রতিনিধি: মাননীয় বিচারপতি ওবায়দুল হাসান মহোদয় আজ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন।
আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ওবায়দুল হাসান সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) থেকে সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয় থেকে গত ৩১ আগস্ট এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তিনি আমাদের নেত্রকোণার কৃতি সন্তান। নেত্রকোণার ঐতিহাস ও ঐতিহ্যে যে অল্প কটি পরিবার আছে তার মধ্যে মান্যবর বিচারপতির পরিবার অন্যতম।
বলতে গেলে ইতিহাসের এমন গৌরবময় যোগ বাংলাদেশেই বিরল। তাঁর পিতা মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, গণ পরিষদ এর সদস্য হিসেবে সংবিধানে স্বাক্ষরকারী। ১৯৭০ সালের সাধারণ পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে এমপিএ হয়েছিলেন।
তাঁর ছোট ভাই মাননীয় এমপি সাজ্জাদুল হাসান। জনাব সাজ্জাদুল হাসান দীর্ঘকাল সিভিল এডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে কাজ করেছেন। জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, প্রধানমন্ত্রীর পিএস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব এবং সিনিয়র সচিব হিসেবে অবসর নিয়েছেন। কর্মজীবনে তিনি একজন খুব সৎ মানুষ। সবার ছোটজন জনাব সোহেল একটি কর্পোরেট হাউসের বড় কর্মকর্তা।
শিক্ষা, সততা, মানবিকতা, পরোপকার, বিনয়, ভদ্রতার মতো মহান গুণগুলো বংশপরম্পরায় প্রাপ্তী। মান্যবর বিচারপতি একজন লেখক ও গবেষক। তাঁর বেশ কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
২৬ সেপ্টেম্বর আমরা আশা করি তিনি বাংলাদেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেবেন। নেত্রকোণার ইতিহাস সমৃদ্ধ হবে।
বাংলাদেশের ইতিহাসেও একটি বিরল ঘটনা হবে। পিতা সংবিধান অনুমোদনে স্বাক্ষরকারী, তিনি নিজে প্রধান বিচারপতি হিসেবে সংবিধানের অভিভাবক ও রক্ষক হবেন, ছোট ভাই আইন প্রণেতা, ইতিহাসের এমন মধুর ও গৌরবময় মহামিলন নতুন এক অধ্যায় সূচনা করবে।
আমরা গর্বিত, আনন্দিত নেত্রকোণাবাসী হিসেবে। মান্যবর বিচারপতি মহোদয়ের জন্য প্রার্থণা করি দীর্ঘ সুস্থ জীবন।
লেখক: ইকবাল তপু, নেত্রকোনা।
