ভলান্টিয়ার প্রতিনিধি: চেয়ার! শব্দটা শোনামাত্রই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক টুকরো কাঠ, মেটাল, বা প্লাস্টিকের বসার স্থান। যার বাংলা অর্থ কেদারা। আহা! কেদারা! কী শৈল্পিক নাম! তবে এ নামে তেমন কেউ চিনে না।
মেটালিক চেয়ার শক্তপোক্ত, কাঠের চেয়ার ঐতিহ্যবাহী, আর বেতের চেয়ারে বসলে নস্টালজিয়া জাগে। মালয়েশিয়ান প্লাইউডের চেয়ার আজকাল বেশ চলছে। কিন্তু প্লাস্টিকের চেয়ার? ওহ, সেটাতে বসলে নাকি এলার্জি হয়! এখনকার মানুষের তো অ্যালার্জিরও কি বাহার! কারো এলার্জি কাঠে, কারো লোহার, আর কারো প্লাস্টিকে। তবে সবচেয়ে বড় এলার্জি দেখা যায় ক্ষমতার চেয়ারে। যিনি একবার বসেন, আর উঠতে চান না!
তবে চেয়ার নিয়ে আরেক গল্প আছে, যা শুনলে গা ছমছম করে। চেয়ার শুধু বসার জন্যই নয়, কেউ কেউ এই চেয়ারে বসে বিদ্যুৎ অভিজ্ঞতাও লাভ করে! ভাবছেন, এটা আবার কী ধরনের চেয়ার? হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন, ইলেকট্রিক চেয়ার! ওটা এমন এক বসার জায়গা যেখানে একবার বসলে বিদ্যুতের এমন জোরে শক লাগে যে আর কখনো উঠতে হয় না! ইতিহাস সাক্ষী, কত রাজা-মহারাজা, ক্ষমতাবান, এমনকি সাধারন মানুষও এই চেয়ারে বসে চিরস্থায়ী বিশ্রামে চলে গেছেন।
ভাবুন তো, ইলেকট্রিক চেয়ারে কেউ বসে চিৎকার করছে, আর বৈজ্ঞানিকরা নোট নিচ্ছেন, “ওহ, ভল্টেজটা একটু বেশিই হয়ে গেছে!” তখনকার বিজ্ঞাপনও হয়তো এমন ছিল—“আরামদায়ক ইলেকট্রিক চেয়ার, একবার বসুন, আজীবনের জন্য বিশ্রাম নিন!”
ছোটবেলায় স্কুলের দিদিমণি একবার বললেন, “বাচ্চারা, আজ সবাই চেয়ারের ছবি আঁকো।” আমার চেয়ারটা যেন রূপকথার পঙ্খিরাজ! সেই চেয়ার দেখে দিদিমণি মাথার চুলের মুঠি ধরে বললেন, “এটা চেয়ার না, চমৎকার এক শিল্পকর্ম!” ভাবছি, যদি তখন ইলেকট্রিক চেয়ারের ছবি আঁকতাম, তাহলে হয়তো দিদিমণি চেয়ারের ছবিতেই শক খেয়ে যেতেন!
চেয়ার নিয়ে এত মাথাব্যথার কারণ কিন্তু গভীর। শুধু বসার জন্যই চেয়ার না, ক্ষমতার জন্যও চেয়ার! কত মানুষ যে চেয়ারের লোভে জীবনের সব সুখ বিসর্জন দিয়েছে তার হিসাব নেই। ক্ষমতার চেয়ারে বসতে পারা যেন মহাপুরস্কার! তবে ইলেকট্রিক চেয়ারে বসা? সেটাও এক ধরনের পুরস্কার, তবে বিদ্যুতের!
দেশে চেয়ার নিয়ে এমন শোরগোল শুরু হয়েছে যে, মনে হচ্ছে টুলেই ভালো! টুল নিয়ে তো কেউ টানাটানি করে না।
দেশে বর্তমানে পদার্থবিজ্ঞানীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। তারা এখন চেয়ার নিয়ে রীতিমতো গবেষণা শুরু করেছে। গবেষণার বিষয়বস্তু—“কাঠের চেয়ারে ইলেকট্রিক শক দেওয়া যায় নাকি মেটালিক চেয়ারে?” কেউ কেউ আবার দাবি করছেন, “প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে শক দেওয়া গেলে পরিবেশবান্ধব হতো!”কেউ কেউ তো ঠাট্টা করে বলছে, “বসে দেখো, এমন আরাম যে বিদ্যুৎ বিলের চিন্তাও করতে হবে না!”
তবে এই গবেষকদের আসলে সেই চেয়ারে বসিয়ে দিলে বাস্তব অভিজ্ঞতা বাড়ত! অবশ্য যদি কেউ সেই ইলেকট্রিক চেয়ারের শক সুস্থ থাকে, তবে নোবেল পুরস্কার তার জন্য নিশ্চিত! আর পেলে সেটি হবে উপমহাদেশের দ্বিতীয় পদার্থবিদ্যার নোবেল। সত্যিই তো, চেয়ার এমন এক পদার্থ, যা পদার্থবিদ্যাকে পর্যন্ত ভাবিয়ে তুলেছে!
বাঙালি যেমন দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বোঝে না, তেমনি এখন মনে হচ্ছে চেয়ারের মর্যাদাও হারিয়ে যাচ্ছে। তবে ইলেকট্রিক চেয়ারের মর্যাদা এখনও অটুট! কেউ চাইলেও সেখানে বসতে চায় না!
চেয়ার চেয়ার খেলা, ক্ষমতারই মেলা,
কে বসবে কে উঠবে, শুরু হলো ঝগড়া।
ইলেকট্রিক চেয়ার আছে, বসার কি সাধ্য?
শক খেয়ে যে ঘুমাবে, চিরকাল মাত্রা!
লেখক: প্রফেসর কাজী শফিকুর রহমান
অধ্যক্ষ, কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ।
