কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুরআন- হাদিসের পাতায় যুবসমাজের গুরুত্ব: আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন,
১৮: আল-কাহাফ:১৩,

نَحْنُ نَقُصُّ عَلَیْكَ نَبَاَهُمْ بِالْحَقِّؕ اِنَّهُمْ فِتْیَةٌ اٰمَنُوْا بِرَبِّهِمْ وَ زِدْنٰهُمْ هُدًىۗۖ

“হে নবী! আপনার কাছে আমি তাদের (আসহাবে কাহাফ)-এর ইতিবৃত্ত সঠিকভাবে বর্ণনা করেছি, তাঁরা ছিল কয়েকজন তরুণ। তাঁরা তাদের পালনকর্তার প্রতি ঈমান আনয়ন করেছিল এবং আমি তাদেরকে সৎপথে চলার শক্তি বৃদ্ধি করে দিয়েছি। (সূরা : কাহাফ- ১৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “তরুণ বয়সের ইবাদতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়। একজন বৃদ্ধের ইবাদতের চেয়ে আল্লাহ বেশী খুশি হন, সে তরুণ ও যুবকদের ইবাদতে, যারা যৌবন বয়সে আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত থাকে”। -আবু দাউদ

* আমর ইবনু মায়মুন আল আওদি (রা.) বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) জনৈক ব্যক্তিকে উপদেশস্বরূপ বলেন, পাঁচটি বস্তুর পূর্বে পাঁচটি বস্তুকে গণিমত মনে করো। যথা- ১. তোমার বার্ধক্য আসার পূর্বে যৌবনকে, ২. পীড়িত হওয়ার পূর্বে সুস্বাস্থ্যকে, ৩. দারিদ্র্যতার পূর্বে সচ্ছলতাকে, ৪. ব্যস্ততার পূর্বে অবসরকে ও ৫. মৃত্যুর পূর্বে জীবনকে। ’ –তিরমিজি* রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, “হাশরের ময়দানে মানুষকে পাঁচটি বিষয়ের হিসাব দিতে হবে, তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, যৌবন কাল কিভাবে ব্যয় করেছে”। – মিশকাত
*
*ইতিহাসের পাতায় যুব সমাজের ভূমিকা:*
* *প্রথম সমাজকল্যাণমূলক যুব সংঘ- হিলফুল ফুজুল:*
√ এই সংঘ আরব যুবক ও মুহাম্মাদ (সা:) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নবুয়তপ্রাপ্তির ১৫ বছর আগে, মাত্র ২৫ বছর বয়সে। এই সংঘ পবিত্র মক্কা শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। হযরত মুহাম্মাদ (সা:) ইসলাম পূর্বযুগে এই সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের কাজ ছিল-
• বিধবা, ইয়াতিম ও পীড়িতদের সাহায্যদান
• দুস্থদের আশ্রয়দান ও অসহায়দের সহায়তা করা।
• ঝগড়া- বিবাদ মিটিয়ে দেয়া
• জুলুম করা থেকে ফিরে রাখা
• আমানত রক্ষা করা
• সত্য কথা বলা এ জাতীয় অনেক কাজ তিনি ঐ সমিতির মাধ্যমে করতে থাকলেন।
• এই সংগঠনের প্রভাবে মক্কায় অনেক বিপর্যয় থেকে রেহাই পায়। কাবাঘরের কালোপাথর পুনঃপ্রতিষ্ঠার সময়ও এই সংঘের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
• এটিই ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম সমাজকল্যাণমূলক সংঘ।

* * *হযরত আবু বকর (রা.):*
√ হযরত আবু বকর (রা:) শুধুমাত্র ইসলামের সোনালী যুগেই যে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বিষয়টি এমন না বরং শৈশব থেকেই তার প্রথম পরিচয় হচ্ছে তিনি ছিলেন রাসূলের (সা:) অন্তরঙ্গ বন্ধু। তার বয়স যখন ১৮ তখন রাসুলের (সা:) বয়স ছিল ২০ বছর। তিনি রাসুলের (সা:) অধিকাংশ বাণিজ্যিক সফরসঙ্গী ছিলেন। এ বয়সেই তিনি ব্যবসা উপলক্ষে সিরিয়া সফরে যাওয়ার পথে খ্রিস্টান পাদ্রীর মাধ্যমে রাসূলের (সা:) নবী হওয়ার পূর্বাভাস পান, যা তিনি অন্তরে গেঁথে রেখেছিলেন। যার বাস্তব প্রতিফলন তিনি দেখিয়ে ছিলেন বিনাদ্বিধায় রাসুলের (সা:) নবুয়তের প্রতি ঈমান এনে।
√ রাসুলের (সা:) প্রকাশ্য নবুয়তের ঘোষণার সময় আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট ৪০ হাজার দিরহাম ছিল, যা তিনি ইসলামের জন্য ওয়াকফ করে দেন এবং তার অর্থের বিনিময়ে হযরত বিলাল, খাব্বাব, সুমাইয়া, সুহাইব, আবু ফুকাইহ (রা) প্রমুখ দাস-দাসী দাসত্বের শৃংখল থেকে মুক্তি লাভ করেন। তাইতো রাসুল (সা:) বলেছেন: আমি প্রতিটি মানুষের ইহসান পরিষদ করেছি কিন্তু আবু বকরের ইহসানসমূহ এমন যে, তা পরিশোধ করতে আমি অক্ষম। তার প্রতিদান আল্লাহ দেবে, তার অর্থ আমার উপকারে যেমন এসেছে, অন্য কারো অর্থ তেমন আসেনি।
(সূত্র: আসহাবে রাসূলের জীবনকথা-১)

** *হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা:):*
√ হযরত উমর (রা.) তরুণ বয়সে ইসলাম কবুল করেন এবং তার ইসলাম গ্রহণের ঐতিহাসিক ঘটনা আমাদের সকলের জানা। তিনি এখন ইসলাম গ্রহণ করেন তার পূর্বে নারী পুরুষ মিলে ৪০/৫০ জন লোক ইসলাম গ্রহন করেছিলেন, তখনো মুসলিমদের পক্ষে কাবায় গিয়ে নামাজ পড়া তো দূরের কথা মেয়েদেরকে মুসলিম বলে প্রকাশ করাও নিরাপদ ছিল না। হযরত ওমর (রা:) ইসলাম গ্রহণের সাথে সাথে এ অবস্থার পরিবর্তন হলো। তিনি প্রকাশ্যে ইসলামের ঘোষণা দিলেন এবং অন্যদের সঙ্গে নিয়ে কাবা ঘরে নামাজ আদায় শুরু করলেন।
√ হযরত ওমর (রা:) বলেন: আমি ইসলাম গ্রহণের পর সেই রাতেই চিন্তা করলাম মক্কাবাসীদের মধ্যে রাসূলের (সা:) সবচেয়ে কট্টর দুশমনকে, আমি তাকে গিয়ে আমার ইসলাম গ্রহণের কথা জানাবো। অতঃপর আমি মনে করলাম, আবু জাহলই সবচেয়ে বড় দুশমন। সকাল হতেই আমি তার দরজায় করাঘাত করলাম। আবু জাহল বেরিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল, ‘কি মনে করে?’ আমি বললাম: আপনাকে এ কথা জানাতে এসেছি যে, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা:) প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর আনীত বিধান ও বাণীকে মেনে নিয়েছি। একথা শুনা মাত্র সে আমার মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিল এবং বলল: ‘আল্লাহ তোকে কলঙ্কিত করুক এবং যে খবর নিয়ে তুই এসেছিস তাকেও কলঙ্কিত করুক’। (সীরাতে ইবনে হিশাম)।
এরূপ ঐতিহাসিক এবং সাহসী ভূমিকা রাখা যুবক ওমর (রা:) পক্ষেই সম্ভব ছিল।

* *আসহাবে কাহাফে যারা ছিলেন তাঁরাও তরুণই ছিলেন ।*