লেখক (বাদল আহমেদ): সন্তানের জন্য নিরাপদ সম্পদ গড়ে দেয়ার অর্থ হলো সন্তানকে নিঃস্ব করে দেয়া। কারণ নিশ্চয়তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অলস থেকে অলসতর করে তোলে।
সন্তানের জন্য অতিরিক্ত নিরাপদ সম্পদ গড়ে দেওয়া মানে যদি এমন হয় যে তার জীবনের সব ঝুঁকি, সংগ্রাম আর দায়িত্ব আগেই আপনি সরিয়ে দেন, তাহলে সে ধীরে ধীরে নিজের শক্তি ব্যবহার করার সুযোগ হারায়। মানুষ সক্ষম হয় চাপে পড়ে, সিদ্ধান্ত নিয়ে, ভুল করে, আবার উঠে দাঁড়িয়ে।
সন্তান যখন জানে
“কিছু হলেই বাবা–মা আছে”
“ভবিষ্যৎ আগেই সেট করা”
“ব্যর্থ হলেও কিছু যাবে আসবে না”
তখন তার ভেতরের তাগিদটা দুর্বল হয়ে যায়। পরিশ্রম করার প্রয়োজন কম মনে হয়। ঝুঁকি নিতে শেখে না। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর তাড়না তৈরি হয় না। এখান থেকেই অলসতা জন্ম নেয়, শুধু শরীরের না—মন আর চিন্তার অলসতা।
আরেকটা দিক আছে। সহজে পাওয়া নিরাপত্তা অনেক সময় কৃতজ্ঞতার জায়গা দখল করে অধিকারবোধ। সন্তান ভাবতে শুরু করে, এটা তার প্রাপ্য। ফলে সম্পদের মূল্য বোঝে না, ধরে রাখতে শেখে না, বাড়াতে তো আরও দূরের কথা।
এর মানে এই না যে সন্তানের জন্য কিছুই করা যাবে না। আসল কথা হলো ভারসাম্য।
সম্পদ দেওয়া নয়, সক্ষমতা গড়ে দেওয়াই মূল কাজ।
নিরাপত্তা দিন, কিন্তু সংগ্রামের সুযোগ কেড়ে নেবেন না।
সহায়তা করুন, কিন্তু দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিতে শেখান।
পিছনে দাঁড়ান, সামনে এগিয়ে দিতে যাবেন না।
যে সন্তান নিজের শক্তিতে কিছু অর্জন করে, সে সম্পদ থাকুক বা না থাকুক—নিঃস্ব হয় না।
আর যে সন্তান শুধু উত্তরাধিকার নিয়ে বড় হয়, সে অনেক সময় সব থাকা সত্ত্বেও ভেতরে ফাঁকা থেকে যায়।এক সময় নিঃস্ব হয়ে যায়।
