বিশেষ প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন এক মুসলিম তরুণী। অভিযোগ উঠেছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবক মিথ্যা পরিচয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক করেন। পরে নিজ বাড়িতে নিয়ে এলে প্রকৃত পরিচয় জানতে পারেন ওই তরুণী। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের বাবুপাড়া গ্রামে। অভিযুক্ত যুবক তপন কুমার (২২), স্থানীয় রতন চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে। তরুণীর বাড়ি কুমিল্লা জেলার চাঁদপুর উপজেলার উত্তর সাঙ্গাছাল মোল্লা গাজী গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশুলিয়ায় গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে প্রায় এক বছর আগে তাদের পরিচয় হয়। পরে সেই পরিচয় প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। তরুণীর অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন তপন।
ভুক্তভোগী তরুণী জানান, গত রোববার রাত ১১টার দিকে তপন তাকে বাবুপাড়া গ্রামে নিয়ে আসে। সেখানে তিনদিন অবস্থানের পর পরিবারের চালচলন ও পরিবেশ দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, তপন হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল।
তরুণীর আরও অভিযোগ, বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় দেন।
ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়ে মেয়েটিকে বাড়ি ফিরে যেতে চাপ সৃষ্টি করেন।
এদিকে খবর পেয়ে ফুলবাড়ী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। কর্তব্যরত এএসআই শাহানুর রহমান স্থানীয় ইউপি সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তের বাড়িতে যান বলে জানা গেছে।
৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবলা বলেন, “পুলিশ আমাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের কথা বলে তারা চলে আসে। এরপর কিছু স্থানীয় ও বহিরাগত লোকজন বিষয়টি দেখবে জানালে আমি সেখান থেকে চলে আসি।”
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদ হাসান নাঈম বলেন, “৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ছেলে-মেয়ের বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয়। যেহেতু তারা ভিন্ন ধর্মের, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে পুলিশ ফিরে আসে।”
তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভুক্তভোগী তরুণী কোনো আইনি সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
