লেখক: মোঃ তাইজুল ইসলাম
বিষয়টা একটু পরিষ্কার করি।
প্রথমে সমস্যা সৃষ্টি হয়, যখন বাজারের ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত খাজনার চার্ট টাঙিয়ে দেয়। তখন ইজারাদার ও তাঁর লোকজন বিভিন্নভাবে ব্যবসায়ীদের চার্ট নামানোর জন্য হুমকি দিতে থাকে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা চার্ট না নামালে, একপর্যায়ে ইজারাদার পক্ষ জোরপূর্বক সেই চার্ট নামিয়ে ফেলে। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে।
এই ঘটনায় মগদের পাশাপাশি ঝাকুয়া গোষ্ঠীর একটি বড় অংশ, সুদেরু গোষ্ঠী (এটাই সবাই বলে, ভুল হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন), পালোয়ান গোষ্ঠী এবং চেয়ারম্যান গোষ্ঠীর লোকজনও জড়িয়ে পড়ে। ফলে বিষয়টি শুধু ব্যবসায়ী ও ছায়া ইজারাদারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঠিক এই সুযোগটাই কাজে লাগায় বুড়াবুড়ী ইউনিয়নের কয়েকজন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী। তাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মগদের সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও বড় আকার দেওয়ার চেষ্টা করেন। কারণ সামনে নির্বাচন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের মানুষের মাঝে বিভেদ তৈরি করা, যাতে ১ নং ওয়ার্ডের মানুষ ২ নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মতিউর রহমান লাল ভাইকে ভোট না দেয়।যদিও বাস্তবতা হলো, লাল ভাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়েছেন—কারণ তাঁর পরিবারের কিছু লোক সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছে ও নেতৃত্ব দিয়েছে। তাঁর এই মারামারিতে জড়িত হওয়ার কারণ মগদের চাপ এবং তাঁর রাজনৈতিক অপরিপক্বতাও একটি কারণ।
লাল ভাই এই এলাকার একজন সম্ভাবনাময় চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু ঐসকল রাজনৈতিক নেতার নোংরা রাজনৈতিক চালের কারণে বর্তমানে তাঁর ভোটব্যাঙ্ক ৫০-৭০% মাইনাস হয়ে গেছে। অন্যদিকে ২ নং ওয়ার্ডেও একাধিক গোষ্ঠী রয়েছে( মগ,ঝাকুয়া, সুদেরু, পালোয়ান) যারা কখনোই চায় না অন্য কোনো গোষ্ঠী তাদের থেকে শক্তিশালী হয়ে উঠুক। ফলে তিনি মগদের সমর্থন পেলেও ঝাকুয়া গোষ্ঠীর সমর্থন পাবেন না, অথবা ঝাকুয়া গোষ্ঠীর সমর্থন পেলেও মগদের পাবেন না।অতীত থেকে এটাই হয়ে আসছে।অতীতের নির্বাচন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চাঁদ ভাই বা লাল ভাই ২ নং ওয়ার্ডে কখনোই খুব বেশি ভোট পাননি। তবে বুড়াবুড়ীতে তাঁরা বরাবরই একচেটিয়া সমর্থন পেয়েছেন। এখন যদি এই সংঘর্ষ দীর্ঘস্থায়ী করা যায়, তাহলে ৫/৬/৭/৮/৯ নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন। কারণ তখন ১ ওয়ার্ডের ভোট বিভিন্ন দিকে ভাগ হয়ে যাবে।
এই কারণেই কিছু পক্ষ এখনও বিভিন্নভাবে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছে, যাতে আবারও বড় ধরনের সংঘর্ষ বাধে। কিন্তু এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের। আর রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মতিউর রহমান লাল ভাই নিজেই।
এখন প্রশ্ন হলো—আমরা কি অন্যের রাজনৈতিক খেলায় পুতুল হবো, নাকি নিজেরা বসে ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সেই ব্যবস্থা করবো?
আমি বিশ্বাস করি, আমাদের এলাকার সচেতন মানুষ কোনো উস্কানিতে পা দেবে না।
আর একটি কথা বলতে চাই। আমাদের আগের প্রজন্ম এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি—এটা তাঁদের ব্যর্থতা। তাই আমি একজন তরুণ হিসেবে, এলাকার উভয় পক্ষের সচেতন ও নিরপেক্ষ তরুণদের সঙ্গে নিয়ে, মুরুব্বিদের পরামর্শে এই সমস্যার শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে চাই। আমরা চাই, বাইরের কেউ সুযোগ নেওয়ার আগেই আমরা নিজেরাই বসে সমস্যার সমাধান করি।
এলাকাবাসীর মতামত ও পরামর্শ চাই। আমরা কি একটি শান্তি উদ্যোগ নিতে পারি?
কমেন্টে আপনার মতামত জানান
ধন্যবাদন্তে
মোঃ তাইজুল ইসলাম
সভাপতি,
ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন অফ বুড়াবুড়ী
সাবেক সভাপতি
ফিনিক্স-সমাজ গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ
( বিঃদ্রঃ এই সকল সংগঠনের তরুণরাও পাশে থাকবেন শান্তিপূর্ণ সমাধানে)
