মাহফুজার রহমান(কুড়িগ্রাম): সন্ধ্যার পর শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন অলি-গলিতে কিশোর গ্যাংয়ের দলবদ্ধ পায়চারি ও বেপরোয়া আচরণ এখন সাধারণ মানুষের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল নিয়ে উচ্চ শব্দে ঘোরাঘুরি, পথচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং যানবাহন চলাচলে সাইড না দেওয়ার প্রবণতায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একদল কিশোর সন্ধ্যার পর বিভিন্ন মোড়ে জটলা সৃষ্টি করে। অনেক সময় তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডা দেয়, উচ্চস্বরে গান বাজায় এবং চলাচলরত যানবাহনের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। এতে রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

সচেতন মহল বলছে, কিশোর বয়সে সঠিক পারিবারিক নজরদারি, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের অভাব এ ধরনের পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার এবং অপরাধপ্রবণ কিছু ব্যক্তির প্ররোচনাও কিশোরদের বিপথগামী করছে। সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ভবিষ্যতে এসব কিশোর বড় ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোরদের অবাধ চলাফেরা ও বেপরোয়া আচরণ শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, তাদের নিজেদের ভবিষ্যতের জন্যও ক্ষতিকর। এতে পড়াশোনার প্রতি অনীহা বাড়ে, মাদকাসক্তি ও সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। নিয়মিত পুলিশ টহল বৃদ্ধি, সন্দেহভাজন গ্যাং সদস্যদের নজরদারিতে আনা এবং অভিভাবকদের সচেতন করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজে নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সমাজের সচেতন নাগরিকদের মতে, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি প্রতিরোধ করে নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে।