ভলান্টিয়ার (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন রৌমারী যাদুরচর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি পাঁচজন কর্মচারী নিয়োগে ঘুস হিসাবে নেওয়া ১৬ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। এর আগে বুধবার প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মজিবুর রহমান ও শিক্ষক হাশেম পৃথকভাবে ডিজি, ডিডি, দুদক, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন।

অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম ২০০২ সালের ২৩ জানুয়ারি যাদুরচর ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ হিসাবে যোগদান করেন। কিছুদিন পরেই তিনি  নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন পদে কয়েক দফায় নিয়োগ দেওয়ার নামে চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার হাতিয়ে নিয়েছেন। অপরদিকে কলেজে কারিগরি, বাণিজ্যিক ও শান্ত মরিয়মের বিএড শাখা খুলে নিয়োগ বাণিজ্যও করেছেন তিনি। কয়েকজন শিক্ষক বলেন, গরু বিক্রয় ও লাভের ওপর টাকা নিয়ে চাকরি নিয়েছি। কিন্তু স্থায়ীভাবে চাকরিতো হয়নি, উপরন্তু লাভ দিতে গিয়ে জীবন শেষ। এ নিয়ে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মজিবুর রহমান কোর্টে ২টি মামলা করেন। অবশেষে বেকায়দায় পরে অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম পাঁচজনের ১৬ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ বাণিজ্য ছাড়াও বিগত দিনে ভর্তি ও ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন অধ্যক্ষ। ১৮ বছরে শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যয্য পাওনা ১০% বেতন-ভাতা ও টিওশন ফি বাবদ কোটি টাকা আদায় হলেও তা না দিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করেন।

অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, নানাবিধ কারণে তাদের চাকরি হয়নি। ফলে তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। আমি কোনো আনিয়ম করি নেই। কলেজ সভাপতি মো. সবুজ মিয়া বলেন আমি নিয়ম অনুযায়ী ৯ জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছি কোন ঘুস গ্রহণ করা হয়নি। কর্মচারীর ঘুসের টাকা ফেরত বিষয়ে তিনি বলেন, এসব নিয়োগ আমার সময়কার নয়।