কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে নদীভাঙনরোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে এক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে সদর অফিসার্স ক্লাবের আলোর ভুবনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

অ্যাক্টিভিস্টা কুড়িগ্রাম ও ডিস্ট্রিক্ট ক্লাইমেট নেটওয়ার্কের আয়োজনে, উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থা ও একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ সভায় জেলার নয়টি উপজেলা থেকে প্রায় ৫০ জন ক্লাইমেট নেটওয়ার্ক সদস্য অংশ নেন।

সভায় বক্তারা বলেন, নদীভাঙনের কারণে কুড়িগ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিবছর বসতভিটা ও জীবিকা হারিয়ে দারিদ্র্যের চক্রে পড়ছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা ও বৈজ্ঞানিকভাবে পরিকল্পিত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের রওশনআরা চৌধুরী বলেন, ‘নদীভাঙনের কষ্ট যারা নিজেরা ভোগ করেননি, তারা বুঝবেন না। আমাদের বাড়ি চারবার ভাঙনের শিকার হয়েছে। নারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই কুড়িগ্রামে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ জরুরি।’

কুড়িগ্রাম প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘বৈজ্ঞানিক জরিপ করে টেকসই বাঁধ নির্মাণে সরকারকে বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে।’

ডিস্ট্রিক্ট ক্লাইমেট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক এম. রশীদ আলী বলেন, ‘প্রয়োজনে ছোট ছোট প্রকল্প না নিয়ে স্থায়ী সমাধানের জন্য বাজেট নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় অতিথি হিসেবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মার্জান হোসেন ও উপসহকারী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া একশনএইড বাংলাদেশের ডেপুটি ম্যানেজার (পার্টনারশিপ অ্যান্ড প্রোগ্রাম) আরিফ সিদ্দিকী, উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থার প্রকল্প সমন্বয়কারী রবিউল ইসলামসহ অন্যরা অংশ নেন।

বক্তারা আরও বলেন, নদীভাঙনের কারণে অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ছে, মেয়েশিশুদের বাল্যবিবাহ বেড়ে যাচ্ছে। মানুষ ত্রাণ নয়, নিরাপদ বসতভিটার নিশ্চয়তা চান। এজন্য স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ছাড়া বিকল্প নেই।