ভলান্টিয়ার প্রতিনিধি:  বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের একটি জেলা কুড়িগ্রাম। অপার সম্ভাবনার একটি জেলা হওয়া সত্ত্বেও এ জেলাটি দেশের সবচেয়ে দরিদ্রতম জেলা। একটি পরিবারের সবচেয়ে দূর্বল সন্তান নিয়ে বেশি ভাবেন বাবা-মা। তেমনি দরিদ্রতম এ জেলা নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভাবেন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের উন্নয়ন  নিয়ে তাঁর মেধাপ্রসূত চিন্তা , বিচক্ষণতা এবং বিশ্লেষণ ধ্রুবতারার মতো উজ্জ্বল । কুড়িগ্রামের ১৬ টি নদ-নদী, ৪২০ টি চর এবং সীমান্তবর্তী ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে না পারার কারণে এ জেলা দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে।কিন্তু এখানকার সাধারণ মানুষ অত্যন্ত পরিশ্রমী, ভূ-প্রকৃতি পরিবেশ বান্ধব, নদীর মিঠা পানি মূল্যবান শ্রেষ্ঠ সম্পদ, চর এলাকার মাটি সোনার ফসল ফলার যোগ্য ভূমি।কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদী বাস্তব উপযোগী পরিকল্পনার অভাবে কিংবা স্থানীয় যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে জাতীয় পর্যায়ে কুড়িগ্রামকে সেভাবে উপস্থাপন না করায় এ জেলা ক্রমান্বয়ে আরো পিছিয়ে পড়ছে। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় কুড়িগ্রামের উন্নয়নের বিষয়টি মাথায় রেখেছেন যা তাঁর বিভিন্ন সময়ে নানামুখী কর্মকান্ডে প্রতিফলিত হয়েছে।
সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লন্ডনে যান। তিনি সেখানে তাঁর শত ব্যস্ততার মাঝেও কুড়িগ্রামের কথা ভোলেন নি।তিনি গত ৬ মে/২০২৩  লন্ডনের ক্লারিজ হোটেলে এক বৈঠকে ভুটানের রাজা  জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুককে কুড়িগ্রামে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে  প্রস্তাব দিয়েছেন। কুড়িগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান ভূটানের অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কুড়িগ্রামে ভূটানের অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হলে এখান থেকে উৎপাদিত পণ্য সড়ক পথে ভূটান তার নিজ দেশে নিয়ে যেতে পারবে। ভুটানে জীবনযাপনের মান বিচার করা হয় গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস (জিএনএইচ)-এর মাধ্যমে। গ্রস ডমেস্টিক প্রোডাক্ট (জিডিপি)-এর মাধ্যমে জীবনমানের তেমনটা তুলনা হয় না। অধিকাংশ ভুটানবাসী তার জীবন নিয়ে সুখী। ভুটানের রাজা পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে তার দেশে একটি প্রশাসনিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে চাওয়ার কথা বলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা তাঁকে পারস্পরিক স্বার্থে  এ প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবটি একটি যুগোপযোগী ও বাস্তব সম্মত। কারণ এতে করে ভূটানের পরিবেশও অক্ষুন্ন থাকবে পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের সহজ যোগাযোগের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামকে উপযুক্ত কাজে লাগাতে পারবে।‘বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সড়ক ও রেলপথসহ সব ধরনের যোগাযোগের উন্নয়ন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ একটি সংযোগের কেন্দ্র।  সেক্ষেত্রে একমাত্র কুড়িগ্রাম জেলাই ভূটান ও বাংলাদেশের মধ্যে অপার সম্ভাবনার সংযোগ স্থল। দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় কুড়িগ্রামে রয়েছে এ ধরণের শ্রমঘন শিল্পে কাজ করার মতো উপযুক্ত  জনবল। ২০১৮ সালে চালু হওয়া কুড়িগ্রামের সোনার হাট স্থল বন্দরের মাধ্যমে ভারত থেকে পাথর ও কয়লা আমদানি হচ্ছে। এ বন্দর দিয়ে বাংলাদেশের কিছু পণ্য রপ্তানীও হচ্ছে।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর ‘সোনাহাট স্থলবন্দর ভারত ও ভুটানের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভুটান ইতোমধ্যেই সোনাহাট স্থলবন্দর ব্যবহার করান জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে।এই বন্দর দিয়ে ভুটান ও বাংলাদেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানি করলে বাণিজ্য সহজ হবে এবং উভয় দেশই উপকৃত হবে।’ফলে ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে যে আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম চালু হবে তা কুড়িগ্রাম জেলার জন্য সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দেবে। ঢাকায় নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত রিনচেন কুয়েন্টশিল বলেন, সোনাহাট স্থল বন্দর ভারত ও ভুটানের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দর দিয়ে ভুটান ও বাংলাদেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানি করলে বাণিজ্য সহজ হবে এবং উভয় দেশই উপকৃত হবে। ভুটান ও ভারতের মধ্যে স্থলপথে সোনাহাট বন্দর সচল থাকলেও বাংলাদেশের সঙ্গে নেই। ভুটান এখন বাংলাদেশের সঙ্গে এই বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব করেছে। বাংলাদেশে কমলা লেবু রপ্তানি করে থাকে ভুটান। সোনাহাট স্থল বন্দর ব্যবহারের সরাসরি  সুযোগ থাকলে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের এলসি খুলতে যে  সমস্যা  তা দূরীভূত হবে। এ ক্ষেত্রে ফল আমদানি স্বাভাবিক থাকবে। ভুটানের সাথে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার মূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ)  থাকায় বাংলাদেশের ১০০ টি পণ্য সেদেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পায় এবং ভুটানের বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রতি বছর কমপক্ষে ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে।।একইভাবে বাংলাদেশের বাজারে ভুটানের ৩৪ পণ্য বিনাশুল্কে প্রবেশ করতে পারবে।বাংলাদেশের ১০০ পণ্যের তালিকা রয়েছে- সিমেন্ট, টিউব, পাইপ ও পলিমার, প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য, টেবিলওয়্যার, ব্যাগ, পাট ও কোকোনাট ফাইবার, জুট কার্পেট, জ্যাকেট, টি-শার্ট, হোসিয়ারি পণ্য, ওভারকোট, শার্ট, ফুল গার্মেন্টস, বেডশীট, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, তৈরি পোশাক জাতীয় পণ্য, সিরামিক পণ্য, রড, অ্যালুমিনিয়াম ডোর, ড্রাইসেল ব্যাটারি, টেবিল ফ্যান, ইলেকট্রিক্যাল ট্রান্সফর্মার, ক্যাবলস, স্টেবিলাইজার, ফার্নিচার জাতীয় পণ্য, ওয়াল ক্লক, সোয়েটার, কলম, টুথব্রাশ, কসমেটিক্স, ড্রাইড ফিশ, কনডেন্স মিল্ক, আলু ও আলুর জাত পণ্য, ব্ল্যাক টি, সুগার কনফেকশনারি-ক্যান্ডি, ব্রেড ও বিস্কুট, প্যাকেট জুস, প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্য ইত্যাদি।
ভুটান বাংলাদেশ থেকে যে সকল পণ্য কিনছে তার সিংহভাগই কুড়িগ্রামে প্রতিষ্ঠিত ভুটানের অর্থনৈতিক অঞ্চলে উৎপাদন করতে পারবে। ফলশ্রুতিতে ভুটানের আর্থিক সাশ্রয় হবে এবং কুড়িগ্রাম জেলার অর্থনৈতিক কর্মাকন্ডে নতুন মাত্রা যোগ হবে। ভুটানের সাথে যখন কুড়িগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার  কানেকটিভিটি তৈরী হবে তখন দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে বর্তমানে কুড়িগ্রামের যে সড়ক ,রেল ও নৌ যোগাযোগ রয়েছে তার মাধ্যমেই দেশীয় উদ্যোক্তরা কুড়িগ্রামে শিল্প প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসবে। কুড়িগ্রাম জেলার মাধ্যমে শুধু যে ভুটানের বাণিজ্যিক সংযোগ স্থাপিত হবে তা নয় বরং নেপালের সাথেও বাংলাদেশের সড়ক পথে একটি বাণিজ্যিক যোগাযোগ সৃষ্টি হবে।
ভুটান থেকে যে পণ্যগুলো বাংলাদেশে শুল্কমুক্তভাবে প্রবেশের সুযোগ পাবে সেগুলো হলো দুধ, প্রাকৃতিক মধু, ময়দা, জেমস, ফ্রুটস, জেলি, সয়াবিন, সিমেন্ট ক্লিংকার, ফেরো সিলিকন, উডেন ফার্নিচার, সাবান, পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট, হুইয়েট ব্রান, মিনারেল ওয়াটার, বীজ আলু, বাঁধাকপি, ফুলকপি কৃষি জাতীয় পণ্য, শুকনো মরিচ, কমলা, আপেল, ফলের জুস, পাথর ও ভাঙা পাথর, জিনজার, কার্ডামম, লাইমস্টোন পাউডার, জিপসাম, লোহা অস্টিন জাতীয় পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য প্রভৃতি। এ পন্যগুলো সোনাহাট স্থল বন্দর দিয়ে আমদানী করা গেলে এ বন্দরের আয় বাড়বে, এ অঞ্চলের মানুষের নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এ পন্যগুলো দেশের অন্যান্য জেলায় অতি সহজে প্রেরণ করা যাবে। কারণ কুড়িগ্রাম থেকে কুড়িগ্রাম-রংপুর সড়ক পথে পন্য গুলো সমগ্র রংপুর,রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে প্রেরণ করা যাবে এবং নির্মানাধীন হরিপুর সেতু চালু হলে ঢাকা বিভাগের সাথে যোগাযোগে সাশ্রয় হবে। ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতু নির্মিত হলে তা দেশের অন্যান্য বিভাগ সহ ভারতের সেভেন সিস্টার রাজ্যেও এ সকল পণ্যের সহজ প্রেরণ ও আনয়ন সম্ভব হবে।

ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে গত ২২/০৩/২০২৩ ইং ‘প্রটোকল অব দ্য অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য মুভমেন্ট অব ট্রাফিক ইন ট্রানজিট বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড ভুটান’ শিরোনামে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। উক্ত চুক্তির ফলে এই দুই দেশ পরস্পরের ভূমি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক সম্পর্ক  জোরদার করতে পারবে।বাংলাদেশের জল, স্থল ও আকাশপথ ব্যবহার করে ভুটান নির্ধারিত ফি দিয়ে তৃতীয় দেশের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য করতে পারবে। ভবিষ্যতে চীনের সঙ্গে ভুটানের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ হলে বাংলাদেশও  এ ট্রানজিট সুবিধায় ভুটানের ভেতর দিয়ে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারবে ।যুগান্তকারী এ চুক্তির মধ্য দিয়ে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সহজ হবে; বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে এবং দুই দেশের জন্য কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, সংযোগ এবং কৌশলগত সুবিধা বয়ে আনবে।’বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে ভুটানের পণ্য রপ্তানি ও আমদানি করলে বাংলাদেশ বিভিন্ন মাশুল পাবে। এ ছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটবে। ট্রানজিট অ্যাগ্রিমেন্ট বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলো অধিকতর কর্মক্ষম হবে এবং রাজস্ব আয় বাড়বে। এ ছাড়া কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ বন্দরগুলোর সার্বিক কার্যক্রমে গতি আসবে।
বাংলার আটটি বৃহৎ নদীবন্দরের অন্যতম ছিল চিলমারী বন্দর। এ চিলমারী বন্দরসংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে ব্রিটিশ আমলে বড় বড় জাহাজ চলাচল করত, পণ্যবোঝাই জাহাজ নোঙর করত। ভারতের কোচবিহার, আসাম, মেঘালয় এবং চীন ও মিয়ানমার থেকে আসত এসব পণ্যবাহী জাহাজ। আসাম ও কলকাতা রুটের মাঝে দাঁড়িয়ে এ চিলমারী বন্দর।
চিলমারী নদীবন্দর ঐতিহ্যের ধারক, উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা, আন্তঃসীমানা সহযোগিতার অংশ।  চিলমারী বন্দরের উন্নয়নে  স্থানীয়ভাবে নির্মাণকাজ হলে অনেক লোকের কর্মসংস্থান হবে। চিলমারী বন্দরের উন্নয়ন হলে প্রত্যাশা করা যায়, এটি একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হবে। এতে স্থানীয় জনগণের ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া রাস্তাঘাট, পরিবহন, গৃহায়ণ ও নানা রকম সুযোগ-সুবিধার সৃষ্টি হবে। সরকার এ বন্দর থেকে নানা ধরনের রাজস্ব অর্জন করতে পারবে। এতে স্থানীয় পণ্য পাট, সিমেন্ট ও সার, যার চাহিদা ভারতে রয়েছে, সেসব পণ্য রফতানি করতে সাহায্য করবে। এটি পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সংযোগে সহায়তা করবে। ব্রহ্মপুত্র আন্তঃমহাদেশীয় নদী হওয়ায় চিলমারী নদীবন্দরকে কেন্দ্রে রেখে  ভারত, ভুটান, নেপাল ও চীনের মধ্যে একটি সংযোগ বন্ধন ও সুলভ বাণিজ্য সম্পর্ক সৃষ্টি করবে। এটি দেশের নিজস্ব উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্পর্ক সৃষ্টি করবে। চিলমারী বন্দর উন্নয়নে বিনিয়োগ যেমন বাংলাদেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তেমনি এর আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কথাও প্রকাশ করে। সেক্ষেত্রে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর প্রস্তাবে ভুটান যদি কুড়িগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে সেক্ষেত্রে চিলমারি বন্দরও জলপথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারবে।

আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব আর্কিওলজির গবেষণায় পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন আন্তর্জাতিক নৌ বাণিজ্যের রুট এই অঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র-তিস্তা অববাহিকা। এ অববাহিকার ‘চিলমারী নদীবন্দর’ হয়েই চীন, ভুটান ও আসাম থেকে আরব ও রোমানরা পণ্য আনা-নেওয়া করত। প্রতিবছর হিমালয় থেকে যে ৭৫০ মিলিয়ন টন বালু বাংলাদেশে প্রবাহিত হয় ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে। তার মধ্যে কুড়িগ্রাম অঞ্চলে রয়ে যায় অন্তত ২৫০ মিলিয়ন টন। ভূতত্ত্ব জরিপ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান-শিল্প গবেষণা পরিষদের তথ্যমতে, এই বালুর প্রতি টনে আছে কাচ তৈরির সর্বোচ্চ পরিমাণে কোয়ার্টজ সিলিকা ৫০ কেজি, ইলমিটাইট ৬০০ গ্রাম, জিরকন ৪০০ গ্রাম, রুটাইল ৪০০ গ্রাম, গার্নেট ২ কেজি ৫০০ গ্রাম ও মোনাজাইট ১০০ গ্রাম। অর্থাৎ কুড়িগ্রাম অঞ্চলের এক টন বালুতে ৫৪ কেজি খনিজ থাকে, যার বর্তমান বাজারমূল্য ৩ লাখ ২০ হাজার ৮৯২ টাকা। সেই হিসেবে ২৫০ মিলিয়ন টন বালুর খনিজের মোট মূল্য দাঁড়ায় আট হাজার কোটি টাকা। পিএইচপি গ্রুপের হিসাবমতে, বাংলাদেশের কাচশিল্পে প্রতিবছর কোয়ার্টজ সিলিকা বাবদ আমদানি ব্যয় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। শুধু কুড়িগ্রামে প্রাপ্ত কোয়ার্টজ সিলিকা দিয়েই সারা দেশের চাহিদা মিটিয়েও রপ্তানি করা সম্ভব। আশা করা যায় ভুটান কুড়িগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প কারখানা স্থাপন করলে এই মূল্যবান কোয়ার্টজ সিলিকা স্বল্প মূল্যে ক্রয় করে ব্যবহার করতে পারবে।
একসময় চীন ও অস্ট্রেলিয়া এই বালু আমদানির ব্যাপারে আগ্রহ দেখালেও  পরবর্তীতে কোন উদ্যোগ গৃহীত না হওয়ায় এ ব্যাপারে আর কোন অগ্রগতি হয় নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রাম জেলার উন্নয়নের ব্যাপারে নিজে থেকে সব সময় সজাগ এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূখী কর্মকান্ড গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁরই মেধাপ্রসূত চিন্তার ফসল ভুটানকে কুড়িগ্রামে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আহবান। আমরা এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি চির কৃতজ্ঞ। আমরা আশা করি এ ধরণের পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে কুড়িগ্রাম হবে একটি অন্যতম শিল্পন্নোত জেলা। মঙ্গা বা দারিদ্রের মতো কলংক চিরতরে বিদায় নেবে। আমরা সেই সুদিনের প্রত্যাশায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকলাম।

লেখক: প্রফেসর মীর্জা মো: নাসির উদ্দিন, অধ্যক্ষ,কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ,কুড়িগ্রাম।