ভলান্টিয়ার প্রতিনিধি:
কি ভাবছেন ! এই নগ্ন ছবিটি দেখে বিব্রত বোধ করছেন? এই ছবিটিই আজকের সমাজের দর্পণ । যদিও ছবিটি ১৮৯৬ সালে ফ্রান্সের বিখ্যাত চিত্রকর Jean Leon Gerome তার এই চিত্রকর্মের একজন নারীকে “ সত্যের “ মূর্ত প্রতীক হিসেবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন যার শিরোনাম ছিল- “The truth is coming out of the well.”  এই চিত্রটি সেই উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিক থেকেই সমাজের মিথ্যে খোলস খুলে দেয়ার চেষ্টা করেছে।
সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে আমাদের চারপাশের দেখা অদেখা সবকিছুই স্রষ্টার দেয়া নিখুঁত নিয়ম ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। সৃষ্টি জগতের কোনো কিছুরই স্রষ্টার বেঁধে দেওয়া নিয়মের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা নেই। ব্যতিক্রমী সৃষ্টি শুধু ‘মানুষ’: আল্লাহর এই শৃঙ্খলিত সৃষ্টিজগতের মধ্যে একটি ব্যতিক্রমী সৃষ্টি হচ্ছে মানুষ। কারণ আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি। মানুষ চাইলে তার জীবনে স্রষ্টার দেয়া নিয়ম-নীতি বা শৃঙ্খলা মানতেও পারে আবার ভাঙতেও পারে। এমন কি সে স্রষ্টাকে অস্বীকার করে নিজের খেয়াল খুশি মতো নিয়ম-কানুন তৈরিও করে নিতে পারে। তাইতো সর্বস্ব আজ সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ মিথ্যাকেই আপন হিসেবে বেছে নিয়েছে…।

গল্পটা ছিল এ রকম -একবার “সত্য “ এবং “ মিথ্যা “ পরস্পরের সঙ্গে দেখা করলো কিছু বিষয়ে মীমাংসার জন্য । হাঁটতে হাঁটতে তারা চলে গেলো একটা কুয়োর পাশে। “ মিথ্যা“  বললো, দেখো, কী পরিষ্কার জল। চলো স্নান করি। বলাবাহুল্য “ সত্য“  বিশ্বাস করেনি “ মিথ্যা“ র কথা। নিজে পরখ করে দেখলো। যখন দেখলো কুয়োর জল সত্যিই পরিষ্কার তখন মিথ্যা’র প্রস্তাবে রাজী হলো।দুজনে পোশাক ছেড়ে নেমে পড়লো কুয়োয়। স্নানের মাঝপথে  “ মিথ্যা“  কুয়ো থেকে উঠে এসে “ সত্যে“ র পোশাক পরে পালিয়ে গেলো।
খানিকক্ষণ অপেক্ষা করার পর “ মিথ্যা“ কে ফিরতে না দেখে “ সত্য “ উঠে এলো কুয়ো থেকে। না, “ মিথ্যা“  তো কোথাও নেই, পোশাকও নেই। রাগে অন্ধ হয়ে “সত্য“  বের হলো মিথ্যা’কে খুঁজতে, কিন্তু নগ্ন “ সত্য“কে দেখে ছিঃ ছিঃ ধিক্কার করলো সভ্য মানুষেরা। এমন কী তেড়েও এলো অনেকে।
“ সত্য“  অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও তাদের বোঝাতে না পেরে রাগে দুঃখে অপমানে ফের কুয়োয় নেমে গেলো।
তারপর থেকে “সত্য“কে আর কখনও কেউ দেখেনি।
যাকে দেখেছে কিংবা দেখছে সে আসলে “ সত্যে“র পোশাক পরা “মিথ্যা“ ! বিশ্ব এখন নগ্ন “সত্য“ দেখে অবজ্ঞা ও ক্রোধে তার দৃষ্টি এড়িয়ে যায়।মরিয়া “সত্য“  কুয়ায় ফিরে আসে এবং ভিতরে লুকিয়ে থাকে। তারপর থেকে, “মিথ্যা“ – “সত্যে“র মতো পোশাক পরে – সমাজের চাহিদা মেটাতে বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কারণ তারা কোনো অবস্থাতেই নগ্ন “সত্যে“র মুখোমুখি হতে চায় না।
“সবশেষে আমি বলবো সত্যের জয় আসেই – আগে অথবা পরে”

লেখক: জনাব বাদল আহমেদ, জার্মান প্রবাসী।