রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে মোছাঃ জান্নাত আক্তার মীম (১৯) নামের এক গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতন করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে পাষণ্ড স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের বিরুদ্ধে। গত সোমবার জুন সকাল আনুমানিক ১০:৩০ ঘটিকায় উপজেলার রাজারহাট ইউনিয়নের চান্দামারী কবিরাজপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
বর্তমানে গুরুতর আহত ওই গৃহবধূ রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর পিতা মোঃ আব্দুল মান্নান (৫২) বাদী হয়ে রাজারহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের মন্দির টেংরাকুটি গ্রামের মোঃ আব্দুল মান্নানের মেয়ে জান্নাত আক্তার মীমের সাথে চান্দামারী গ্রামের মোঃ আনিছুর রহমানের ছেলে মোঃ শাহ আলম (২৩)-এর রেজিস্ট্রি মূলে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বরের চাহিদা অনুযায়ী নগদ অর্থ, অটো রিকশাসহ যাবতীয় আসবাবপত্র যৌতুক হিসেবে প্রদান করা হয়।
অভিযোগেসূত্রে জানা যায় , বিয়ের পর কিছুদিন যেতে না যেতেই ১নং আসামি শাহ আলম তার মা মোছাঃ ছালেহা বেগম (৪৫) ও বাবা মোঃ আনিছুর রহমান (৫০)-এর প্ররোচনায় মীমকে আরও মোটা অঙ্কের টাকা বাবার বাড়ি থেকে এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। এতে মীম অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এমনকি তার ভরণপোষণও বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করলেও বিবাদী পক্ষ তা অমান্য করে নির্যাতন আরও বাড়িয়ে দেয় এবং তালাকের হুমকি প্রদর্শন করে।
সর্বশেষ গত সোমবার সকালে মীম শ্বশুরবাড়িতে সাংসারিক কাজ করার সময় শাহ আলম পুনরায় বাপের বাড়ি থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ প্রয়োগ করে এবং বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে। মীম এর তীব্র প্রতিবাদ করলে শাহ আলম ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে হাত-পা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলা ফোলা ও রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় ছালেহা বেগম ও আনিছুর রহমান মীমকে কিল-ঘুষি মেরে বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং ঘরে তালা লাগিয়ে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের ও তালাকের হুমকি দেয়।
পরে আহত মীম নিরুপায় হয়ে তার বাপের বাড়িতে চলে আসলে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী মোঃ গোলজার হোসেন (৬০), মোছাঃ মমিনা বেগম (৩৫) ও মোঃ আলম মিয়া (৩৬) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ ব্যাপারে রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিযোগপত্রটি পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
