লেখক: (মোঃ জামাল হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম)  রাস্তায় নামলে আমরা হয়ে যাই একেকজন রাজা। সম্ভবত বাংলাদেশেই রোড এক্সিডেন্ট বেশি হয়। তার মেইন কারণ হতে পারে আমাদেন ঘাওড়ামী।সেদিন এক ব্যাটারিচালিত রিক্সাওয়ালাকে দেখলাম সে ডান পাশ হতে পার্শ্ব রাস্তা থেকে মেইন রোডে উঠে সরাসরি বাম পাশে যাচ্ছে অথচ পিছন হতে পাথরবাহী ট্রাক ছিল। কপাল ভালো ট্রাকের আরো বামে যাওয়ার একটু জায়গা ছিল আর হার্ড ব্রেক করতে পেরেছিল। সবাই রিক্সাওয়ালার সাথে রাগ করতে গেলে উল্টো সেই ফাপর নেয় হাত দিয়ে সিগনাল দেই নাই? বুঝো এখন অথচ রিক্সায় দুজন যাত্রীও ছিল। অটোরিক্সাগুলো এতো স্পিডে চলে অথচ এগুলোর কন্ট্রোল পাওয়ার খুবই কম। অটোর ব্রেকে একধরনের চকলেটের মত জিনিস থাকে হার্ড ব্রেক করলে চকলেট উল্টে গিয়ে ব্রেক ফেল করে ফলে তারা হার্ড ব্রেক করতে পারে না বাধ্য হয়ে সামনে যা থাকে লাগে দেয় পরে কী হয় হোক।

এখন একটা ফ্যাশান চালু হইছে গাড়ি মেরে দেওয়া। মানে একজন রং অর্থাৎ সিগনাল না দিয়ে ঘোরা, হুইসেল না দিয়ে মেইন রাস্তায় উঠা, ডাবল লাইন করা, সামনে গাড়ির গতি কমানো ইত্যাদি করছে তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য তার গাড়িতে নিজের গাড়ি লাগিয়ে দেওয়ার নাম নাকি তার গাড়ি মেরে দেওয়া। এতে কে মরে তা নাহয় পরের কথা কিন্তু গাড়ি মারার সিস্টেম কি অন্য কোন সভ্য দেশে আছে? অবশ্য বাংলাদেশেরই এমন ড্রাইভারও দেখেছি একটা অসুস্থ বিড়ালের বাচ্চাকে দেখে কোচ একেবারে দাড় করিয়ে রেখেছে নিরাপদে বাচ্চাটি পাড় হওয়া পর্যন্ত। সেও মানুষ তারও সময়ের দাম ছিল।
হাত ছেড়ে দিয়ে মোটরসাইকেল চালানো আরেক ফ্যাশানের নাম। হঠাৎ গাড়ি স্লো বা হুইসেল দেওয়ার দরকার হতে পারে বা জোড়ে চালিয়ে একটা গাড়ি নিরাপদভাবে ক্রোস করার দরকার হতে পারে। দুর্ঘটনা তো ঘটে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে।
কম বয়সী ছেলেরা জিগজাগ করে এতো স্পিডে গাড়ি চালায় মনে হয় এদের সাথে বাস ট্রাক লাগলে এদের কিছুই হবে না উল্টো বাস ট্রাক চ্যাগবা লাগবে। বাস ট্রাকের লোহার চেয়ে এদের হাড়হাড্ডি বেশি শক্ত। এরা বুঝেই না জোড়ে গাড়ি চালানোর মধ্যে তাদের নিজস্ব কোন ক্রেডিট নাই। ক্রেডিট হচ্ছে গাড়ির কারণ কোম্পানি সেভাবেই সৃষ্টি করেছে যে কিনা ১১০কিঃ গতিতে যাবে। এটা তোমার শক্তির বহিঃপ্রকাশ নয় বরং গাড়ির শক্তির বহিঃপ্রকাশ। তুমি যে দুর্বল সেই দুর্বলই। মরতে চাও অন্য জায়গায় গিয়ে মরো বাবা রাস্তায় এসে নিরীহ দুএকজনকে নিয়ে মরো না দয়া করে।