তোমরা হামাক চেনেন?
বাপ-দাদা হামার বোকা নোয়ায়
তামরা হ্যাডেই জমি কেনেন।
উদাং গায়ে ভূঁই বাড়িত্ যাই
করি চাষ-বাস,
টাটকা খাবার খাই হামরা
আর থাকি সুস্থ বারো মাস।
নোয়াই হামরা শো-বিজ,
তাও ক্যানে হরহামেশাই
কন হামাক মফিজ?
ছল্-চাতুরির ধার ধারিনা
সোজা সাপটা চলি,
মনত্ হামার নাই কোন প্যাচ্
যা ভাবি তাই বলি।
চ্যাংরা – চেংরিরা বেশ সহজ-সরল
যায়না কোন পার্লার,
বেডি ছাওয়ারা করে ধোয়া-মোছা
আর মাছ খায় ধরলার।
বুড়া-মাডা মানুষগুলা
থাকেন টংগত্ বসি,
কেচ্ছা কহেন ছাওয়াগুলাক
আর হুক্কা টানেন কষি।
হ্যাডেই আলু বাইগন করি চাষ
ক্যামনে তোমাক বলি,
ভোক নাইগলে পন্তা খাই হামরা
নূন মরুচ ডলি।
বিয়েন- বৈকেল কাজ করি
আর পিন্দি গামছা তবন,
খেড়ের ঘরত্ থাকি হামরা
নাই কোন ভবন।
প্যালকা-শোলকা খাই হামরা
সিদল এবং শুকতানি,
চশকা করা ছাড়িয়া তোমরা
শোন হামার কাহিনী।
পুসনা খাওয়ার ধুম পড়ে যায়
যখন আসে শীত,
গ্রাম-বাংলায় পড়বে চোখে
বিয়ে-শাদীর গীত।
বান্নির মেলা আসলে হ্যাডেই
ধরি কত বায়না,
তও বাজারের মুড়ি-মুড়কি
আলতা কুমকুম আয়না।
বাইশ্যেলি দিন দেখলে হামরা
করি কত ভাও,
নৌকা বাইচ আর সারি গান
বানেয়া সরেঙ্গা নাও।
কুলি এবং চিতাই পিঠা
গাও-গেরামের মজা,
ভীষণ ভাল লাগে যদি
খাই চাউল ভাজা।
জ্যাবত করি মার্বেল
আর হাতে লাঠাই ঘুড়ি,
সারা গেরাম মাতিয়ে রাখি
চালিয়ে লোহার ঘ্যারঘেরি।
প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুর-বাড়ি হ্যাডেই
হামরা আজার পুত,
তাও ক্যানে হামাক কন তোমরা
অমপুরিয়া ভূত?
এ্যাদন করি আর না দেন অপবাদ
সাবধানের নাই মাইর,
ভুল করিয়াও এমন কথা তোমরা
করব্যান নন মুখের বাইর।
তোমাক হামরা জেয়াপত দেই
আইসেন হামার বাড়ি,
হামার এলাকার গুয়া-পান খাইলে
না যাইবেন আর ছাড়ি।
সাগাই দেখলে খুশি হই হামরা
পরাণে লাগে টান,
মনডা তোমার ভরি যাইবে বাহে
শুনলে ভাওয়াইয়া গান।
