ভলান্টিয়ার প্রতিনিধি:

*যুদ্ধের ময়দানে তো তরুণদের ভূমিকাই অনস্বীকার্য*

*তারুণ্যদীপ্ত যুবক হযরত আলীর (রা) বীরত্ব ও সাহসিকতা*

নবুয়ত প্রাপ্তির অলৌকিক ঘটনা বিশ্বাস করে বিনা প্রশ্নে সর্বপ্রথম ঈমান আনেন রাসূলুল্লাহর (সা) স্ত্রী হযরত খাদিজা (রা.)। তাঁর পরপরই ঈমান আনেন হযরত আলী (রা.)।
হযরত আলী (রা.) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের অতুলনীয় ও শ্রেষ্ঠ বীরযোদ্ধা। আসাদুল্লাহ বা ‘আল্লাহর সিংহ’ ছিল তাঁর উপাধি। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা:)’র জীবদ্দশায় প্রায় প্রতিটি যুদ্ধে বিজয়ের তিনিই ছিলেন প্রধান স্থপতি।

দ্বিতীয় হিজরির ১৭ই রমজান বদর প্রন্তরে মক্কার মুশরিকদের সঙ্গে মুসলমানদের সংঘটিত যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধ। ওই যুদ্ধে এক হাজার কুরাইশ যোদ্ধা সশস্ত্র অবস্থায় তিনশ’ তেরজন মুসলমান সেনার মুখোমুখি হয়। অসম এই যুদ্ধে মুসলমানরা জয়ী হল। এ যুদ্ধে সত্তরজন কুরাইশ নিহত হয়। এর মধ্যে ৩৫ জন বড় যোদ্ধা ও গোত্রপতি হযরত আলী (আ.)-এর হাতে নিহত হয়। বদর যুদ্ধ বিশেষ বীরত্বের জন্য নবীজি তাঁকে ‘জুলফিকার’ নামক তরবারি উপহার দেন।

এরপর তৃতীয় হিজরিতে কুরাইশরা বদর যুদ্ধের পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য মদিনায় দিকে যাত্রা করে। মহানবীও তাদের মোকাবিলা করার জন্য মদিনা থেকে বের হলে দু’দল উহুদ প্রান্তরে পরস্পরের মুখোমুখি হয়। মহানবী (সা.)- এ যুদ্ধে শ্রেষ্ঠ বীর হযরত আলীর হাতে ইসলামের পতাকা দিলেন। সে সময় যুদ্ধে ওই ব্যক্তির হাতেই পতাকা অর্পণ করা হতো যে সর্বশ্রেষ্ঠ যোদ্ধা এবং যদি তার হাত থেকে পতাকা পড়ে যেত তবে তারপর যে শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা তার হাতে তা দেওয়া হতো। উহুদের যুদ্ধে কুরাইশদের নয় জন শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা যারা একের পর এক পতাকা ধারণ করেছিল যারা সবাই হযরত আলীর হাতে নিহত হয় যা কুরাইশদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

পঞ্চম হিজরির জিলকদ মাসে মক্কার মুশরিকরা দশ হাজার সৈন্য নিয়ে মদীনা আক্রমণের পরিকল্পনা করে। মুসলমানরা হযরত সালমান ফারসির পরামর্শে বিশাল এক পরিখা খনন করে যাতে মুশরিক সেনাদল মদীনায় প্রবেশ করতে না পারে। আমর ইবনে আবদে উদ নামের আরবের এক প্রসিদ্ধ বীর তার ঘোড়া নিয়ে পরিখা অতিক্রম করে মুসলমানদের সামনে এসে মল্লযুদ্ধের আহ্বান জানায়। মুসলমানরা তার বিশাল দেহ ও রণমূর্তি দেখে তার মুখোমুখি হওয়ার সাহস পাচ্ছিল না। সে তাদের আহ্বান করে বলছিল, ‘তোমরা তো বিশ্বাস কর যে, তোমাদের কেউ নিহত হলে বেহেশতে যাবে তাহলে কেন অগ্রসর হচ্ছ না?’ তখন মহানবী (সা.) সাহাবীদের আহ্বান করে বললেন,‘তোমাদের মধ্যে কে তার সঙ্গে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত আছ?’

হযরত আলী (আ.) বললেন, ‘আমি আছি’। তখন নবীজি তাঁর পাগড়ি খুলে আলী (আ.)-এর মাথায় বেঁধে দিলেন। আলী আমরের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আমি তোমাকে তিনটি প্রস্তাব দিচ্ছি, এর মধ্যে যে কোন একটি মেনে নাও : এক. ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে যাও; দুই. যে সৈন্যদলসহ এসেছ তা নিয়ে ফিরে যাও; তিন. যেহেতু আমার ঘোড়া নেই তাই যুদ্ধ করার জন্য ঘোড়া থেকে নেমে আস।’
আমর বলল, ‘আমি তোমার তৃতীয় প্রস্তাব মেনে নিচ্ছি।’ অতঃপর সে ঘোড়া থেকে নেমে আসল। উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে সে তরবারি দিয়ে হযরত আলীর ওপর আঘাত হানল। তিনি ঢাল দিয়ে তা আটকানোর চেষ্টা করলে তা দ্বিখণ্ডিত হয়ে তাঁর মাথায় আঘাত হানল। তিনি রক্তাক্ত অবস্থায়ই তার সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাকলেন। সুযোগ বুঝে তিনি আমরের পায়ে তরবারি দিয়ে আঘাত হানলে তার পা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল এবং তিনি আরেকটি আঘাত করে তাকে মাটিতে ফেলে দিলেন। অতঃপর তাকে হত্যা করলেন।

মদীনার ইহুদিরা খুবই সম্পদশালী ছিল। তারা মহানবী (সা.)-কে অত্যন্ত কষ্ট দিত। মহানবী তাদের এক গোত্র বনি নাযিরকে দমনের জন্য তাদের আবাসস্থল খায়বারের দিকে যাত্রা করলেন। সেখানে তাদের দুর্ভেদ্য দুর্গ ছিল। দীর্ঘদিন তিনি তাদের অবরোধ করে রাখলেন, কিন্তু তা ফলপ্রসূ হল না। তিনদিন পরপর তাদের সঙ্গে মুসলমানদের মুখোমুখি যুদ্ধ হয়। প্রথম দিন রাসূল (সা.) হযরত আবু বকরকে একদল সেনাসহ তাদের উদ্দেশে প্রেরণ করলেন। তিনি তাদের আক্রমণ করে পরাস্ত হয়ে ফিরে এলেন। দ্বিতীয় দিন তিনি হযরত ওমরকে সেনাদলসহ যুদ্ধে প্রেরণ করলেন। তিনিও ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসলেন।

তৃতীয় দিনের আগের রাতে রাসূল (সা.) বললেন, ‘আগামীকাল এমন এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করব যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাকে ভালোবাসে। সে প্রচণ্ড আক্রমণকারী, পলায়নকারী নয়।’
সকল সাহাবী আকাঙ্ক্ষা করতে লাগলেন- ঐ ব্যক্তি যেন তিনি হন। তৃতীয় দিন সকালে রাসূল (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আলী কোথায়?’ সকলে বললেন, ‘তিনি চোখের ব্যথায় আক্রান্ত ও পীড়িত।’ মহানবী (সা.) বললেন, ‘তাকে আন।’
হযরত আলীকে আনা হলে তিনি তাঁর মুখের লালা তাঁর চোখে লাগিয়ে দিলেন। আলী আরোগ্য লাভ করলেন। হযরত আলী বলেন, ‘এরপর কখনও আমি চোখের ব্যথায় আক্রান্ত হইনি।’
রাসূল (সা.) যুদ্ধের পতাকা হযরত আলীর হাতে দিলেন এবং সৈন্যদের নিয়ে যাত্রা করতে বললেন। ইহুদিদের প্রসিদ্ধ বীর মারহাবের রণমূর্তিই মূলত পূর্ববর্তী সেনাদলের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছিল। হযরত আলী ইহুদিদের দুর্গের নিকট পৌঁছলে মারহাব তাঁর সাথে মোকাবিলার জন্য বেরিয়ে আসল। যুদ্ধ শুরু হল এবং বেশ কিছুক্ষণ যুদ্ধের পর হযরত আলী তাকে হত্যা করলেন। এরপর ‘আল্লাহর সিংহ’ একাই নিজ হাতে খায়বার দুর্গের বিশাল দরজাটিকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলেছিলেন। অথচ এই দরজা খোলা ও বন্ধের কাজে দরকার হতো বেশ কয়েকজন শক্তিশালী প্রহরী। হযরত আলী বিশাল দরজাটি উপড়ে ফেলার পর মুসলিম সৈন্যরা দুর্গের মধ্যে প্রবেশ করে তা দখল করে নেন।
খাইবারের সুরক্ষিত কামুস দুর্গ জয় করলে মহানবী তাঁকে ‘আসাদুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর সিংহ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

 

*বদরের যুদ্ধে দু’জন তরুণ সাহাবীই ইসলামের ঘোর দুশমন আবু জাহিলকে হত্যা করে:*

ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধে ক্ষীণশক্তি হয়েও মুসলিম বাহিনী বিপুল বিজয় লাভ করে। আল্লাহর অনুগ্রহ ও মুসলিম বাহিনীর অমিত বীরত্বের কারণেই এই বিজয় অর্জন করা সম্ভব হয়। বদর যুদ্ধে বীরত্বের যেসব গল্প ইতিহাসে অমর হয়ে আছে তার মধ্যে রয়েছে মুআয ও মুআওয়িয দুই কিশোরের সাহসিকতার গল্প। এই কিশোরের হাতেই নিহত হয় চরম ইসলামবিদ্বেষী কুরাইশ নেতা আবুল হাকাম।
যিনি আবু জাহাল নামেই অধিক পরিচিত।
কিশোর মুআয বিন আমর ও মুআওয়িয বিন আফরা (রা.) ছিলেন বৈপিত্রীয় ভাই। উভয়ে একই সঙ্গে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণেন ।
যুদ্ধের বহু আগেই তারা লোকমুখে জেনেছিল, মক্কায় আবু জাহাল নামের এক ব্যক্তি রয়েছে। সে মুসলিমদের অনেক বেশি কষ্ট দিত। আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর প্রতিও সে ছিল অত্যন্ত নির্মম।
এ ছাড়া সাধারণ মানুষ ও হজযাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করত আবু জাহাল। তাদের ইচ্ছা হলো এই পাষণ্ডকে হত্যা করার। তারা তাকে হত্যা করারও পরিকল্পনা করে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তারা হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-কে হজরত মুআয (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, চাচা, আপনি আবু জাহালকে চেনেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। মুআয (রা.) বললেন, আমাকে চিনিয়ে দিন।

আমি শুনেছি, সে মুসলমান ও আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে কষ্ট দিত। আমি আজ তাকে পরাজিত করতে চাই। হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বলেন, তাকে দেখলে আমি দেখিয়ে দেব ইনশাআল্লাহ!
উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলো। আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) আবু জাহালকে দেখলেন এবং মুআয ও মুআওয়িযকে দেখিয়ে দিলেন। কিশোর এই দুই সাহাবি তাকে অনুসরণ করতে শুরু করলেন এবং উপযুক্ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। সুযোগ বুঝে হজরত মুআয (রা.) আবু জাহালকে আঘাত করলেন। সে মুমূর্ষু অবস্থায় মাটিতে পড়ে গেল। এমন সময় ইকরামা ইবনে আবু জাহাল (তখনো তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি) এগিয়ে এলো এবং মুআয (রা.)-কে আঘাত করলেন। আঘাতে তার বাম হাত কেটে ঝুলে গেল। ঝুলে থাকার কারণে তিনি ঠিকমতো যুদ্ধ করতে পারছিলেন না। তিনি তার ঝুলে থাকা হাতটি পায়ের নিচে চাপ দিয়ে হাত থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। যেন যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে পারেন।
অন্যদিকে মুআওয়িয (রা.) আবু জাহালের দিকে এগিয়ে গেলেন। মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় আঘাত করে তাকে মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে দেন।

*স্পেন বিজয়ী তরুণ সেনাপতি তারেক বিন জিয়াদের মর্মস্পর্শী বক্তব্য যেভাবে বিজয়কে তড়ান্নিত করে*

স্পেনে মুসলিম শাসনের সূচনা করেছিলেন সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ। তিনিই ইউরোপ বিজয়ী প্রথম মুসলিম বীর।
৭১০ খ্রিস্টাব্দের দিকে স্পেনের ক্ষমতায় আসেন রডেরিক। রডেরিক ক্ষমতায় এলে সিউটার শাসনকর্তা জুলিয়ান, প্রথানুযায়ী তাঁর কিশোরী কন্যাকে শিক্ষার্জনের জন্য রাজদরবারে পাঠান।
রডেরিক জুলিয়ানের কন্যাকে ধর্ষণ করেন।
প্রতিশোধের নেশায় জুলিয়ান সন্ধিতে আবদ্ধ হন মুসলিমদের সঙ্গে, আমন্ত্রণ জানান তারিক বিন জিয়াদকে। মুসলিমদের জিব্রাল্টা প্রণালী গোপনে পার করে দেওয়ার ব্যাপারে জুলিয়ান তারিকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন।
তারিকের বাহিনী ৭১১ খ্রিস্টাব্দে স্পেনের সীমানায় অবতরণ করে।
বর্তমানে যা জিব্রাল্টা নামে পরিচিত।
জিব্রাল্টায় পৌঁছেই তারিক সব নৌযান পুড়িয়ে দেন।
সৈন্যসংখ্যা সাত হাজার জন। স্পেন সম্রাট রডেরিক তারিকের মোকাবেলায় লক্ষাধিক সৈন্য সমাবেশ করেছিলেন। রডেরিকের বিশাল সৈন্যবাহিনীকে মোকাবেলা করতে হবে শুনে তারিকের সৈন্যরা ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু তাদের ছিল অসীম সাহসী, প্রেরণাদায়ী নেতা—তারিক বিন জিয়াদ। সৈন্যদের উদ্দেশে যিনি বলেন : ‘…কোথায় তোমরা পালাবে? তোমাদের পেছনে সাগর, সামনে শত্রু…তোমরা বেঁচে থাকতে পারবে, যদি শত্রুর হাত থেকে নিজেদের জীবনকে ছিনিয়ে আনতে পার…।
” তারিকের মর্মস্পর্শী বক্তব্য স্পেন বিজয় সহজতর হয়।

 

*জীবন্ত শহীদ উপাধিতে ভূষিত হযরত তালহা (রাঃ)*

তালহা (রাঃ) ছিল রসুল (সা:) থেকে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের অন্যতম।
তিনি ছিলেন যেমন উত্তম মুজাহিদ তেমনি দানশীলতার ক্ষেত্রে উত্তম উদাহরণ রেখে গিয়েছেন মুসলিম উম্মাহর জন্য। ঈমান আনার পর অমানবিক তালহারও (রা:) জুলুম নির্যাতন সহ্য করতে হয়। এরপর হিজরত করেন।
হিজরত করার পরে রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবূ আইয়ুব আনসারী (রা)-এর সঙ্গে তাঁর ভ্রাতৃ সম্বন্ধ স্থাপন করেন। বদর ব্যতীত সকল জিহাদ অভিযানে তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে উপস্থিত ছিলেন। বদর যুদ্ধের সময় তিনি ব্যবসা উপলক্ষে শামে অবস্থান করেছিলেন।
অথবা মতান্তরে দূত প্রতিনিধিরূপে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং সে কারণে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে বদরের প্রতিদান ও গনীমতের অংশ প্রদান করেছিলেন।

উহুদ যুদ্ধে ছিল তাঁর সমুজ্জ্বল অবদান। রাসুল (সা.) কাফিরদের আক্রমণে মারাত্মক আহত হন। তাঁর শরীর রক্তে রঞ্জিত হয়। দান্দান মোবারক শহীদ হয়। হজরত তালহা বীরবিক্রমে আক্রমণ করে কাফিরদের কিছুদূর হটিয়ে দিয়ে রাসুল (সা.)-এর কাছে ফিরে এসে তাঁকে কাঁধে করে পাহাড়ের ওপরে উঠছিলেন। আবার কাফিরের দল এগিয়ে এলে তিনি রাসুল (সা.)-কে রেখে তাদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছিলেন। এভাবে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তিনি একসময় সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। ইতিমধ্যে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) রাসুল (সা.)-কে কেন্দ্র করে সমবেত হতে থাকেন। হজরত আবু বকর (রা.) বলেন, আমি ও আবু উবায়দা (রা.) রাসুলুল্লাহর কাছে এসে তাঁর সেবার জন্য গেলে তিনি বলেন, তোমরা আমাকে ছেড়ে তোমাদের ভাই তালহার খবর নাও।
আবু বকর (রা.) বলেন, আমরা দেখি কিছু দূরে একটি গর্তের মধ্যে তালহা বেহুঁশ হয়ে পড়ে আছেন। তাঁর শরীরে তরবারি, তীর ও বর্শার সত্তরটির বেশি আঘাত ছিল। উহুদের যুদ্ধের এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাসুল (সা.) তালহা (রা.) সম্পর্কে বলতেন, ‘যদি কেউ কোনো মৃত ব্যক্তিকে পৃথিবীর বুকে হেঁটে বেড়াতে দেখতে চায়, তাহলে সে যেন তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহকে দেখে।

ধারাবাহিক আলোচনা চলবে….

লেখক: অধ্যক্ষ জনাব শাহজালাল সবুজ