ভলান্টিয়ার প্রতিনিধি:
*জায়েদ বিন হারিসা (রা.) একমাত্র সাহাবী যার নাম কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে-*
হজরত জায়েদ বিন হারিসা (রা.) ই একমাত্র সাহাবি, যার নাম পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে। প্রথম সারির ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যেও জায়েদ (রা.)-এর নাম অন্যতম। ‘খাদিজা (রা.) ও আলী (রা.)-এর পরেই জায়েদ (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তারপর আবু বকর সিদ্দিক (রা.)।’ (সিরাতে ইবনে ইসহাক)
বাল্যকালে ইয়েমেন থেকে লুণ্ঠিত হয়েছিলেন জায়েদ। বিক্রি করার জন্য ওঠানো হয়েছিল ওকাজের বাজারে। তখন সদ্যই খাদিজার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন মুহাম্মদ (স.)। খাদিজা (রা.)-এর ভাতিজা হাকিম বিন হিজাম জায়েদকে কিনে উপহার দিয়েছিলেন নবী-দম্পতিকে।
পরিবার বিয়োগে ব্যাথাতুর জায়েদ অল্প কিছুদিনেই নবী-দম্পতির ভালোবাসায় পেছনের সব কষ্ট ভুলে গেলেন। বহু বছর পর জায়েদের বাবা-মা একদিন জানতে পারলেন, ছেলেবেলায় হারিয়ে ফেলা তাদের সন্তান রয়েছে মক্কায়, মুহাম্মদ নামের এক নবীর ঘরে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। খবর পেয়েই জায়েদের বাবা ছুটে এলেন মক্কায়। তিনি তখনও প্রভাবশালী কোজায়া গোত্রের সর্দার। সম্পদের অভাব নেই। দুনিয়ার সবকিছুর বিনিময়ে হলেও তিনি সন্তানকে ফেরত নিতে চান। তারা জায়েদকে বাড়ি নিতে উদ্যত হলেন। সবশুনে শান্ত কণ্ঠে নবীজি (স.) বললেন, জায়েদকে অধিকার দেওয়া হলো। সে যদি পরিবারের কাছে ফিরতে চায়, বিনিময় ছাড়াই সে যেতে পারে। আর যদি থাকতে চায়, তার সেই ইচ্ছাকেও মূল্যায়ন করা হবে।
নবীজির কথা শুনে আনন্দিত হলেন জায়েদের বাবা হারিসা। এত সহজ শর্ত! কিন্তু জায়েদ তখন শব্দহীন, চোখে পানি। ক্রীতদাস জায়েদ মাথা তুলে স্থির কণ্ঠে বললেন, নবীজির চেয়ে আমার কাছে বড় কিছু নেই, নবীজির কাছে থাকাকেই আমি পছন্দ করলাম। জায়েদ যখন তার সিদ্ধান্তের কথা জানাচ্ছিলেন, তখন তার বাবা হতবাক। সন্তানের মুখে এ কেমন কথা শুনলেন তিনি! সেদিন জায়েদ (রা.) তার বাবাকে যতটা হতবাক করেছিলেন, পৃথিবীর কেউ হয়তো কোনো বাবাকেই অতটা হতবাক করেনি।
আবেগ ও ভালোবাসার বাধ নবীজিরও ভেঙে গিয়েছিল সেদিন। তৎক্ষণাৎ জায়েদের হাত ধরে তিনি টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন কাবার চত্বরে। তারপর উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন— ওহে মক্কাবাসী, তোমরা শুনে রাখো, জায়েদ আজ থেকে মুক্ত। শুধু মুক্তই নয়, সে আমার সন্তান। সে আমার ওয়ারিস, আমি তার ওয়ারিস।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে জায়েদ নামটি এভাবে উল্লেখ করে বিশেষভাবে সম্মানিত করেন-
‘অতঃপর জায়েদ যখন তার স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করল তখন আমি তাকে তোমার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করলাম, যাতে পালক পুত্রদের স্ত্রীদের ব্যাপারে মুমিনদের কোনো অসুবিধা না থাকে; যখন তারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করে। আর আল্লাহর নির্দেশ কার্যকর হয়ে থাকে।’ (সুরা আহজাব: ৩৭)
রাসুলুল্লাহ (স.) তাকে তাঁর মহানুভবতা আর আখলাকের কারণে অনেক বেশি মর্যাদা দিয়েছেন। হজরত আয়েশা (রা.) ইরশাদ করেন, যখনই রাসুলুল্লাহ (স.) জায়েদ ইবনে হারিসা (রা.)-কে কোনো সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে পাঠিয়েছেন, তাঁকেই সেনাপতি নিযুক্ত করেছেন। (তাফসীরে ইবনে কাসির)
মুমিন হওয়ার জন্য অন্যতম শর্ত রাসুল (স.)-কে ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা হতে হবে বাবা-মা, সন্তান-সন্ততি ও সব মানুষের চেয়ে বেশি’ (বুখারি: ১৫)। যার জ্বলন্ত পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন জায়েদ বিন হারিসা (রা.)।
মূতার যুদ্ধে প্রথমে হজরত জায়দ ইবনে হারেশা (রা.) এর হাতে পতাকা ছিল। তিনি বীর বিক্রমে লড়াই করে শাহাদাতবরণ করেন। এরপর হজরত জাফর ইবনে আবিতালেব (রা.) পতাকা ধারণ করেন। তাঁর ডান হাত কেটে গেলে তিনি বাম হাতে পতাকা ধরেন, তাঁর সে হাতও কেটে যায় , কিন্তু তাতেও তিনি পতাকা মাটিতে পতিত হতে দেননি, সামলিয়ে রাখেন। অতঃপর শাহাদাতবরণ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ত্রিশ বছর ।
এরপর হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.) পতাকা বহন করেন এবং তিনিও শহীদ হন। অতঃপর মুসলমানদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে হজরত খালেদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) পতাকা বহন করেন এবং তিনি তীব্র লড়াইয়ের পর বিজয় সূচিত হয়।
*হজরত জাফর ইবনে আবিতালেব (রা.)*
রসূলুল্লাহ (সা) মুতার যুদ্ধে একসাথে তিনজন সেনাপতির নাম ঘোষণা করেন যার মধ্যে যায়েদ ইবনে হারেছা (রা.) কে ১ম সেনাপতি মনোনীত করেন। এরপর বলেন যে, যায়েদ যদি শহীদ হন তবে দ্বিতীয় সেনাপতি হবেন জাফর এবং জাফর যদি শহীদ হন, তবে আবদুল্লাহ ইবনে রওয়াহা (রা.) হবে পরবর্তী সেনাপতি।
মুতা নামক জায়গায় উভয় দলের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে অত্যন্ত তিক্ত লড়াই হয়। মাত্র তিন হাজার মুসলিম সৈন্য দুই লাখ অমুসলিম সৈন্যের সাথে এক অসম যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন। বিস্ময়কর ছিলো এ যুদ্ধ। দুনিয়ার মানুষ অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলো। ঈমানের বাহাদুরি চলতে থাকলে এ ধরনের বিস্ময়কর ঘটনাও ঘটে।
সর্বপ্রথম রসূলুল্লাহ (সা) র প্রিয় পালক পুত্র হযরত যায়েদ ইবনে হারেছা (রা.) পতাকা গ্রহণ করেন। অসাধারণ বীরত্বের পরিচয় দিয়ে তিনি শাহাদাত করণ করেন। এ ধরনের বীরত্বের পরিচয় মুসলমান ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়নি। হযরত যায়েদ-এর শাহাদাতের পর পতাকা তুলে নেন হযরত জাফর ইবনে আবু তালেব। তিনিও তুলনাহীন বীরত্বের পরিচয় দিয়ে লড়াই করতে থাকেন। তীব্র লড়াইয়ের এক পর্যায়ে তিনি নিজের সাদাকালো ঘোড়ার পিঠ থেকে লাফিয়ে পড়ে শত্রুদের ওপর আঘাত করতে থাকেন। শত্রুদের আঘাতে তাঁর ডানহাত কেটে গেলে তিনি বাঁ হাতে যুদ্ধ শুরু করেন। বাঁ হাত কেটে গেলে দুই বাহু দিয়ে ইসলামের পতাকা বুকের সাথে জড়িয়ে রাখেন। শাহাদাত বরণ করা পর্যন্ত এভাবে পতাকা ধরে রাখেন।
হাদীসে বর্নিত হয়েছে -আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
সেদিন (মূতার যুদ্ধের দিন) তিনি শাহাদাত প্রাপ্ত জা’ফার ইবনু আবূ ত্বলিব (রাঃ)-এর লাশের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। (তিনি বলেন) আমি জা’ফার (রাঃ)-এর দেহে তখন বর্শা ও তরবারীর পঞ্চাশটি আঘাতের চিহ্ন গুনেছি। তার মধ্যে কোনটাই তাঁর পশ্চাৎ দিকে ছিল না।
(সহিহ বুখারী- ৪২৬০)
জাফরের (রা) শাহাদাতের পর রসুল (সা:) তার পরিবারের সাথে দেখা করতে যান। ইবন ইসহাক আসমা বিন্ত মায়স (রা) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যখন জা’ফর (রা) ও তাঁর সংগীরা শাহাদত বরণ করেন তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমার ঘরে আসেন । আমি ইতোমধ্যে চল্লিশটি কাঁচা চামড়া পাকা করেছি, আটার খামীর তৈরী করেছি এবং আমার ছেলে মেয়েদের গোসল করিয়েছি। তেল দেই ও তাদেরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করি। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন, “জা’ফর (রা)-এর ছেলে মেয়েদেরকে আমার কাছে নিয়ে আস।” আমি তাদেরকে তাঁর কাছে নিয়ে আসলাম । তিনি তাদের ঘ্রাণ নিলেন তখন তাঁর দু’চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। তখন আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রতি আমার মা বাপ কুরবান হোন, আপনার . কাঁদার কারণ কী ? জা’ফর (রা) ও তাঁর সংগীদের কোন সংবাদ আপনার কাছে পৌঁছেছে নাকি ? ” তিনি বললেন, “হ্যাঁ, আজ তারা শাহাদত বরণ করেছে।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর পরিবারের কাছে চলে গেলেন এবং বললেন, “জা’ফর (রা)-এর পরিবার-পরিজনের জন্যে খাদ্য তৈরী করতে তোমাদের যেন ভুল না হয়। কেননা, তারা তার ব্যাপারে ব্যতিব্যস্ত।” (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ঈমাম আহমেদ)
আহ!! কতটা না ভালোবাসতেন রসুল (সা:) তার সাহাবী ও স্বজনদের। ঠিক এরকমই ছিল সাহাবীদের আদর্শ। যখন আল্লাহর পথে কুরবানী দেওয়ার প্রয়োজন হত – সবকিছুর উর্ধ্বে দ্বীন ও শাহাদাতকে প্রাধান্য দিতো। তারা জানতেন আল্লাহ ও তার রসুলুল্লাহর (সা:) দ্বীনের পথকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতে হয়। প্রতিটি জিহাদে প্রিয় সঙ্গীদের হারাতেন, শোক-কষ্টের মাঝে দ্বীনের পথে গাফলতি করতেন না।
যুগে যুগে ইসলাম প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল জুলুম- নির্যাতন ও আত্মত্যাগের সিঁড়ি বেয়ে। সুতরাং আজও সেই পথেই হারানো ইসলামকে খুঁজে পেতে হবে। যারা শুধু মিঠা ওয়াজে ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখায় – তাদের কাছে প্রশ্ন, তাহলে রাসুল (সা:) ও সাহাবীদের এতো আত্মত্যাগের কি প্রয়োজন ছিল!?
*সদ্য বিবাহিত যুবক সেনাপতি আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.)*
প্রথম সারির আনসারি সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.)। রাসুল (সা.)-এর মদিনায় হিজরতের আগেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। আকাবার শপথে রাসুল (সা.)-এর হাতে হাত রেখে মুসলমান হন। ওই শপথে রাসুল (সা.)-এর নির্বাচিত ১২ নকিবের মধ্যে তিনি বনু হারিস ইবনে খাজরাজ গোত্রের নকিব (দায়িত্বশীল) নির্বাচিত হন।
রাসুল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম মদিনায় হিজরতের পর তাঁদের সাহায্য-সহযোগিতায় এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনে আনসারদের মধ্যে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারী মুনাফিক নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই—যাকে পূর্ব থেকেই তার ভক্তরা মদিনার শাহি মসনদে বসানোর স্বপ্ন লালন করে আসছিল, ইসলামের বিরুদ্ধে তার নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের প্রতি খুব বেশি সচেতন ছিলেন তীক্ষ্ম দৃষ্টিসম্পন্ন বিচক্ষণ এই সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.)। (রিজালুন হাওলার রাসুল : ১/২০৬)
গোটা আরবসমাজে মুষ্টিমেয় বিশেষ কিছু লোক ছাড়া সাধারণ মানুষ লিখতে জানত না। আবদুুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.) ছিলেন সেই বিশেষ ব্যক্তিদের একজন।
এর পাশাপাশি তিনি অসাধারণ কাব্যপ্রতিভারও অধিকারী ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর সে যোগ্যতা তিনি কাজে লাগিয়েছেন দ্বিনের জন্য। যুদ্ধ-জিহাদে তাঁর রচিত কবিতা ও তাঁর আবৃত্তি মুজাহিদদের উজ্জীবিত করত। রাসুল (সা.) তাঁর কাব্যপ্রতিভার ওপর বিস্ময় প্রকাশ করতেন এবং মাঝেমধ্যে তাঁর কবিতা শ্রবণ করতেন।
(আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা : ৩/৩৯৮, ৩৯৯-৪০০)
তিনি বদর, উহুদ, খন্দক যুদ্ধ, হুদাইবিয়ার বাইআতে রিজওয়ান, খাইবার যুদ্ধ ও উমরাতুল কাজাসহ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সব যুদ্ধে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছেন। এক যুদ্ধে রাসুল (সা.) তাঁকে নিজের স্থলাভিষিক্ত করে মদিনায় রেখে যান। রাসুল (সা.) তাঁকে খাইবারের খেজুরের পরিমাপ করার দায়িত্ব দেন। মূতায় শাহাদাতবরণ পর্যন্ত সে দায়িত্বে বহাল থাকেন। (আত-তাবাকাতুল কুবরা ৩/৩৯৮; উসদুল গাবাহ ৩/১৩০-১৩১)
তাঁর ঈমান ছিল অত্যন্ত মজবুত।
আবুদ দারদা (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর কাছে এমন দিন থেকে পানাহ চাই, যে দিনটিতে আমি আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাকে স্মরণ না করি। কারণ তিনি যখন সামনের দিকে থেকে আমার সঙ্গে মিলিত হতেন, আমার বুকে হাত মারতেন, আর পেছনের দিক থেকে মিলিত হলে পিঠে হাত মারতেন। অতঃপর বলতেন, একটু সময়ের জন্য বসুন! কিছুক্ষণ ঈমানের আলোচনা করি। বসতাম, কিছুক্ষণ আল্লাহর স্মরণ করতাম। আল্লাহর বড়ত্ব, মহত্ত্ব ও কুদরত নিয়ে আলোচনা করতাম। এরপর বিদায়কালে বলতেন, আবুদ দারদা! এ হচ্ছে ঈমানের মজলিস। (উসদুল গাবাহ ৩/১৩১)
মক্কা বিজয়ের পূর্বে ৮ম হিজরির জুমাদাল উলায় সংঘটিত মূতার যুদ্ধে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। সে যুদ্ধে তিনি ছিলেন রাসুল (সা.)-এর ঘোষিত তিন সেনাপতির তৃতীয় সেনাপতি। তিনি ছিলেন সদ্য বিবাহিত, যুদ্ধে যাওয়ার পূর্বে তার স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎও হয়নি। পর্যায়ক্রমে তিন সেনাপতি শাহাদাতবরণ করার পর যুদ্ধের হাল ধরেন বীরযোদ্ধা খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.)। (তাহজিবুল আসমা ওয়াল-লুগাত ১/২৫৬)
*মু’তার যুদ্ধের বিজয়ী সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ, তিনিও ছিলেন তরুণ/যুবক-*
মু’তার যুদ্ধে মুহাম্মাদ (সা.) জায়িদ ইবনে হারেসাকে রাঃ সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তার মৃত্যু হলে জাফর ইবনে আবি তালিব রাঃ এবং তারও মৃত্যু হলে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রাঃ সেনাপতি হবেন এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা সবাই শহীদ হলে নিজেদের মধ্য থেকে যে কোনো একজনকে সেনাপতি নির্বাচন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। যুদ্ধে জায়েদ রাঃ, জাফর রাঃ ও আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাঃ) তিনজনই শহীদ হন। এরপর খালিদকে রাঃ সেনাপতি নির্বাচন করা হয়। এসময় তার অধীনে মাত্র ৩,০০০ সৈনিক ছিল। অন্যদিকে প্রায় দুই লক্ষ সৈন্য, যার মধ্যে এক লক্ষ রোমান সেনা এবং এক লক্ষ আরব খ্রিস্টান সৈনিক। এই কঠিন পরিস্থিতিতে খালিদ রাঃ মুসলিম সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। কৌশল প্রয়োগ করে তিনি ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের পরিস্থিতি থেকে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেন। রাতের বেলা খালিদ রাঃ সৈনিকদের কিছু দলকে মূল বাহিনীর পেছনে পাঠিয়ে দেন। পরের দিন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্বে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে একের পর এক মুসলিমদের সাথে যোগ দেওয়ার জন্য তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ফলে শত্রুদের মনে বাড়তি সৈনিক আসছে এমন ধারণা তৈরি হয় এবং মনোবল হ্রাস পায়। সেদিন খালিদ রাঃ যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হন। রাতের বেলা সৈনিকরা প্রত্যাবর্তন করে। বাইজেন্টাইনরা একে ফাঁদ ভেবে আর সামনে অগ্রসর হয় নি।এই যুদ্ধে খালিদের রাঃ নয়টি তলোয়ার ভেঙে গিয়েছিল। এই যুদ্ধের কারণে রাসূল সাঃ তাঁকে সাইফুল্লাহ বা আল্লাহর তলোয়ার উপাধিতে ভূষিত করেন।
ধারাবাহিক আলোচনা চলবে….
