ভলান্টিয়ার (ঢাকা) প্রতিনিধি: মানসম্পন্ন নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও টেলিযোগ সেবা পেতে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম অভিযোগ এবং হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েও কোন সুরাহা পাচ্ছে না গ্রাহকরা বলে গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করলেন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন দেশের সেবা খাতে সর্বোচ্চ কর প্রদান করেন মোবাইল ফোন গ্রাহক। কিন্তু কিন্তু এই সেবায় অপারেটর বা নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কারোর কোন জবাব এটা না থাকায় গ্রাহকরা মানসম্পন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন কোয়ালিটি সার্ভিস প্রদানে বাধ্য করতে আমরা রাজপথের সংগ্রামের পাশাপাশি মহামান্য হাইকোর্ট রিপিটেশন দাখিল করি। তার পূর্বে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এবং মন্ত্রণালয় অভিযোগ দায়ের করেও প্রতিকার পায়নি। আমরা এর পূর্বেও বলেছিলাম যেখানে অন্যান্য দেশে এক থেকে দুই লক্ষ গ্রাহককে সেবা দিতে এক মেগাহার্জ তরঙ্গ ব্যবহার করে সেখানে গ্রামীণফোন ২০ লাখ গ্রাহককে সেবা দিতে তরঙ্গ ব্যবহার করে। অবশেষে নিয়ন্ত্রণ কমিশনের রণক নড়েচড়ে তারা গতকাল গ্রামীণফোনের নতুন সংযোগ বিক্রি বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু তাদের মার্কেটে এখনো প্রায় এক কোটি সমপরিমাণ সিম সক্রিয় হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সেক্ষেত্রে করণীয় কি এ ব্যাপারে কমিশনের সুস্পষ্ট ঘোষণা নাই।
আমরা গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিম্নোক্ত কতিপয় বিষয় আপনাদের নজরে আনার চেষ্টা করছি। আশাকরি এর মাধ্যমে আপনারা একটি ধারণা পাবেন আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি কিনা?বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরগুলো মাত্রা অতিরিক্ত কল ড্রপ ও বিভিন্ন ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস প্রদান এবং অতিরিক্ত কল চার্জ আদায় করার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে অভিযোগ করার পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে। কিন্তু তারপরেও কোন প্রতিকার না পেয়ে জনস্বার্থে ২০১৮সালের ১৩ ডিসেম্বর মহামান্য হাইকোর্টের কল ড্রপ এর ক্ষতিপূরণ ও অতিরিক্ত কল চার্জ এবং যত্রতত্র মেসেজ প্রদান বন্ধ করার নির্দেশনা চেয়ে এবং ক্ষতিপূরণে রিট পিটিশন দাখিল করি। মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি তারিকুল হাকিমও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে কল ড্রপ বন্দে ও অতিরিক্ত উটকো চার্চ না কাটতে নির্দেশনা প্রদান এর পাশাপাশি যত্রতত্র মেসেজ বন্ধ করার নির্দেশনা প্রদান করেন। সেই সাথে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিষ্ক্রিয়তা বা সেবা প্রদানের অনীহা হিসেবে কেন আমলে নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে ও নির্দেশনা প্রদান করে।
গ্রাহকদের কল ড্রপ ও অতিরিক্ত চার্জ আদায়ের ফলে কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা তদন্ত এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের লক্ষ্যে রিটকারীদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রদান করা হয়। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আজ অবধি না হয়েছে সেই কমিটি না গ্রাহকরা পেয়েছে ক্ষতিপূরণ।
করোনা মহামারীর মধ্যে গ্রামীণফোনের সেবা কেন্দ্র গুলি একে বন্ধ এবং সেবার মান অত্যন্ত নিম্নমুখী হওয়ায় এবং গ্রাহকদের অভিযোগ গ্রামীণফোন আমলে না নেয়ায় বিষয়টি ডাক ও টেলিযোগ মন্ত্রী জনাব মোস্তফা জব্বারকে অবগত করলে তিনি লিখিত আকারে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করতে বলেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষর সম্বলিত সুনির্দিষ্ট ১৫ একটি অভিযোগ সহকারে গত চার অক্টোবর ২০২০ সালে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ প্রদান করা হয়।
এখানেও গ্রাহকরা হতাশ হয়েছে কারণ বিষয়টি মন্ত্রণালয় থেকে কমিশনে গিয়ে আটকে যায়, যা আজ অবধি আলোর মুখ দেখে নাই।
করোনা মহামারীর মধ্যে যখন সকল কার্যক্রম অনলাইন সেবার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল সেই সময় ইন্টারনেট টেলিকম সেবা নিরবিচ্ছিন্নভাবে পেতে গ্রাহকদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বিষয়টি যখন এমন পর্যায়ে দাঁড়ায় অপারেটররা পর্যাপ্ত তরঙ্গ বরাদ্দ নিচ্ছিল না, এবং নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছিল না , ফলে গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত সংগঠন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের পক্ষে সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মহামান্য হাইকোর্টে গত ২১ জুন ২০২১ রিট পিটিশন দাখিল করেন। তার প্রেক্ষিতে গত ২২ নভেম্বর ২০২১ মানসম্মত টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি মোঃ মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোহাম্মদ কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বিটিআরসিকে ৬০ দিন সময় প্রদান করে, সেই সাথে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে মানসম্মত নেটওয়ার্ক তৈরি করতে সময় প্রদান করেন। এবং বিটিআরসির ৩ ও ৯ ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নিষ্ক্রিয়তা কেন বা দায়িত্ব অবহেলা কেন তা জানতে চেয়েও নির্দেশনা প্রদান করেন।
আমরা লক্ষ্য করেছি যে ১৯৯৭সালে থেকেই গ্রামীণফোনকে বাংলাদেশ রেলওয়ের অপটিক্যাল ফাইবার বিনামূল্যে ব্যবহার করতে দিয়ে একছত্র আধিপত্য বিস্তার করার বিশাল সুযোগ করে দেয় সরকার। সেই সুযোগ এবং সর্বপ্রথম অপারেটর হওয়ার ফলে বাজার মনোপলি বাজারে আধিপত্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করার কারণে গ্রাহকরা মানসম্মত সেবা থেকে বঞ্চিত হলেও অপারেটরটি বিপুল পরিমাণ লাভ করতে থাকায় তার আধিপত্য আরো বৃদ্ধি পায়।
পরবর্তীতে বিটিআরসি থেকে এস এমপি (সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার) অর্থাৎ ৪০ শতাংশের উপর বাজারে আধিপত্য থাকায় গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপন প্রচার অতিরিক্ত অফার এবং অতিরিক্ত সিম বিক্রি করার ক্ষেত্রে নীতিমালা তৈরির মাধ্যমে এসএমএসের মাধ্যমে করাকরি আরোপ করা হয়। কিন্তু এ সকল নির্দেশনা শুধু কাগজে-কলমে থাকায় প্রতিষ্ঠানটি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে । গ্রামীণফোনের নেই কোন জবাবদিহিতা, নিরাপত্তার’ বালাই নেই, সার্ভিস চার্জ আদায়ে সর্বোচ্চ। কল ড্রপ, মিউট কল, একজনের সিম অন্যজনের কাছে বিক্রি করা, বিটিআরসির নিয়মকানুন এমনকি এনওসি না থাকা সত্ত্বেও প্যাকেজ বিক্রি করা সহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। আমরা আশা রাখবো মান সম্মত সেবার নিশ্চিত করতে গ্রামীণফোনের পাশাপাশি অন্য অপারেটরদের ব্যাপারে বিটিআরসি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের।
