ভলান্টিয়ার প্রতিনিধি:
‘বাংলাদেশের হিন্দু বনাম ‘সংখ্যালঘু’
দালাল হিন্দু নেতাদের ডাকে হিন্দুদের জেগে ওঠার সুফল কি সাধারন হিন্দুরা ভোগ করবে? নাকি রাজনৈতিক শব্দ ‘সংখ্যালঘু’ আবারও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে?

গত ১৫ বছর হিন্দুদের উপর নির্যাতন/অত্যাচারের বিচার হয়নি। এই দালাল নেতারাই তো হিন্দুদের বিভিন্ন সংগঠনে ক্ষমতায় ছিলেন, এখনও আছেন। তখন তারা কি করেছেন?

বাংলাদেশ যেখানে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি পাড় করছে, সেখানে আপনারা তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করছেন। আবার সুযোগও করে দিচ্ছেন ভারতকে ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটা নিয়ে রাজনীতি করার।

ভারতের আনুগত্য সরকার গত ১৫ বছরে ক্ষমতায় থাকার পরেও হিন্দুদের উপর কেন হামলা হলো আর সেগুলোর বিচার কেন না হলো সেই উত্তর খুঁজেছেন কখনও? আর সেই ভারত আপনাদের রক্ষা করবে এখন? সরকার পতনের পর বাংলাদেশের হিন্দুদের নিয়ে ভারতীয় মিডিয়া গুলোর অযাচিত/অতিরিক্ত চিন্তার কারন খুঁজেছেন? ইতোমধ্যে তাদের প্রকাশিত অনেক সংবাদ ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। আমাদের রক্ষা করলে এদেশের মানুষেই করবে/করে যাচ্ছে।

যেখানে যেখানে নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে সেগুলোর অধিকাংশই রাজনৈতিক। বিরোধী দলের উপর ক্ষোভের কারনে। রাজনৈতিক হামলাকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে প্রচার করে কে বেশি লাভবান হচ্ছে সেই অনুধাবন যতক্ষণ আপনার না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি সংখ্যালঘু। রাজনৈতিক জ্ঞানশূন্যতার ভিত্তিতে সংখ্যালঘু। যদিও প্রত্যেকটি ঘটনাই অন্যায়।

আপনারা প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি করছেন। প্রশাসনই তো মাঠে নাই। কে আপনার বিচার করবে?
পুলিশ/বিচার বিভাগ সক্রিয় না হওয়া পর্যন্ত আপনারা অপেক্ষা করতে পারতেন। এই আন্দোলন করে যে এখনই বিচার পাবেন না সেটাও আপনারা জানেন।

ইতোমধ্যে বর্তমান সরকারের দ্বায়িত্বশীল যায়গা থেকে জানানো হয়েছে ঘটনা গুলো তারা জানে। প্রতিটি ঘটনার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হচ্ছে।
তারপরও এত তাড়াহুড়ো করে আপনাদের মাঠে নামার উদ্দেশ্য সুবিধাজনক হিসেবে দেশের মানুষ নাও দেখতে পারে!

বরং ভারতীয় কিছু মিডিয়া যে আতঙ্ক তৈরি করে বর্তমান সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে সেই আয়োজনে আপনার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হচ্ছে। দেশের এই অস্থির সময়ে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করা যৌক্তিক কিনা আপনারা ভেবে দেখবেন। তাছাড়া আপনারা কোন আন্দোলন করে কতগুলো হামলার বিচার আদায় করতে পেরেছেন সেটাও ভেবে দেখবেন।

রাজনৈতিকভাবে পরাজিত নেতারা বর্তমানে আপনার আবেগকে কাজে লাগিয়ে আপনাদের ব্যানার ব্যবহার করে মাঠে নেমে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাচ্ছে। আবার তারাই কিন্তু গত ১৫ বছরে হিন্দুদের উপর নির্যাতনের স্পষ্ট প্রতিবাদ ও বিচারের দাবী জানায়নি। বরং ধামাচাপা দিতে চাইছে। এই অনুধাবন না হওয়া পর্যন্ত আপনি বাস্তাব জ্ঞানশূন্য হিসেবে একজন সংখ্যালঘু।

নিজেদের সংখ্যালঘু ট্যাগ দিয়ে ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ’ চাই বলে মুখে ফেনা তুলে যখন সাম্প্রদায়িক দাবি নিয়ে মাঠে নামেন। তখন আপনি আসলেই হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হিসেবে একজন সংখ্যালঘু।

বিচারের দাবি ও নিন্দা আমরা অবশ্যই জানাবো। কিন্তু কারও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য আমাদের আবেগ ব্যবহার করা অব্যাহত থাকলে সেই দায় আপনাদের প্রত্যেকের উপরে বর্তাবে।

সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান ভাইদের দেশে তাদের সহযোগিতা/ভালোবাসা না পেলে আমরা কখনোই ভালো থাকবোনা। তাদের সাথেই আমাদের চলতে হবে, থাকতে হবে। তাদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়তে পারলে তারাই আমাদের আরও আগলে রাখবে।

দেশটা আমার আপনার সকলের। নিজেদের বাংলাদেশী মনে করলে দেশ গঠনে সহায়তা করুন। ‘অখণ্ড ভারতবর্ষ’ চাইলে এই দেশে আপনার বিচার চাওয়ারও অধিকার নাই। দূর হন।

সকল নির্যাতনের নিন্দা জানাই। সকল হামলার বিচার দাবি করছি। পাশাপাশি রাজনৈতিক শব্দ ‘সংখ্যালঘু’ এর বিলুপ্তি কামনা করছি।

কল্লোল রায়
সংবাদকর্মী, কুড়িগ্রাম।