লেখক: প্রফেসর মীর্জা মো: নাসির উদ্দিন

প্রিয় পাঠক, এ বিষয় নিয়ে কারো কোনো গঠণমূলক পরামর্শ থাকলে দিতে পারেন। আপনাদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিবেদনটি পরিমার্জিত করে মাননীয় সাংসদের হাতে তুলে দেয়া হবে। আমরা তাঁকে যথাযোগ্য জায়গায় উপস্থাপন করার জন্য অনুরোধ জানাব।]

কুড়িগ্রাম জেলার অর্থনৈতিক রূপান্তর ও বিশেষ বাজেটের যৌক্তিকতা:

১৬টি নদ-নদী বিধৌত ও রংপুর বিভাগের প্রবেশদ্বার কুড়িগ্রাম জেলাটি নিজস্ব ভৌগোলিক অবস্থান ও নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে এই অনগ্রসরতা এ অঞ্চলের স্থায়ী ভাগ্য নয়, বরং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতারই ফল। ২০২২ সালের জনশুমারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলার ২৩ লাখ ৮৩ হাজারেরও বেশি জনসংখ্যার সিংহভাগই গ্রামে বাস করে। এখানে সামগ্রিক সাক্ষরতার হার ৬৫% হলেও তীব্র নদীভাঙনের কারণে প্রায় ৩৫% থেকে ৫০% পরিবার আজ ভূমিহীন। এখানকার নদীগুলোকে স্থায়ী শাসনের আওতায় এনে চরাঞ্চলের উর্বর ভূমি ও বিপুল জনশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে কুড়িগ্রাম দ্রুত একটি স্বাবলম্বী অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হবে। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করতে আসন্ন বাজেটে কুড়িগ্রামের জন্য একটি ‘বিশেষ রাষ্ট্রীয় বাজেট’ বরাদ্দ করা এখন সময়ের দাবি।

ত্রাণ নয়, কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষ বাজেট প্রয়োজন:

কুড়িগ্রামের স্থায়ী অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কেবল ‘ত্রাণ’ বা ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী’ (যেমন: বয়স্ক ভাতা বা কাবিখা) কেন্দ্রিক প্রথাগত বরাদ্দ কখনোই যথেষ্ট নয়। দারিদ্র্যের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হলে বাজেটের মূল লক্ষ্য হতে হবে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক অবকাঠামো নির্মাণ, সীমান্ত ও নদী বন্দরগুলো পূর্ণাঙ্গ সচল করা এবং চরাঞ্চলের সনাতন কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ করা। যেহেতু কুড়িগ্রামের সিংহভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল, তাই কৃষিকে শিল্পে রূপান্তর করা ছাড়া এখানে দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। এই লক্ষ্য অর্জনে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলোতে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন:

চরাঞ্চলের জন্য বিশেষ উদ্যোগ: চরের কৃষিতে ‘জিরো টিলেজ’ (Zero Tillage) বা শূন্য-চাষ পদ্ধতি দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা এবং প্রান্তিক কৃষকদের সুরক্ষায় একটি ‘বিশেষ শস্য ঋণ তহবিল’ গঠন করা।

থ্রাস্ট সেক্টর (Thrust Sector) বরাদ্দ: কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ (Agro-processing) শিল্প ও আধুনিক হিমাগার স্থাপনকে সরকারের ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ হিসেবে ঘোষণা করে বাজেটে বিশেষ কর রেয়াত ও সুবিধা দেওয়া উচিত। উল্লেখ্য, থ্রাস্ট সেক্টর হলো এমন একটি সম্ভাবনাময় খাত, যা কোনো সুনির্দিষ্ট অঞ্চলের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে দ্রুত বদলে দিতে পারে। কুড়িগ্রামের উর্বর চরাঞ্চল ও বিপুল জনশক্তিকে যদি এই বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে এই জেলাটি আর দেশের জন্য অনুন্নত থাকবে না, বরং জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।

শিক্ষা খাতে বিশেষ বরাদ্দ:

কুড়িগ্রামের শিক্ষা খাতকে এগিয়ে নিতে হলে এটিকে আর দশটি সাধারণ জেলার মতো না দেখে, একটি ‘বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অঞ্চল’ (Special Priority Zone) হিসেবে বিবেচনা করে বাজেট প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি। কুড়িগ্রামে প্রতি বছর বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চরাঞ্চলের স্কুলগুলো দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখতে হয়। এই সংকট উত্তরণে নিচের খাতগুলোতে নজর দেওয়া প্রয়োজন:

ভাসমান বা ‘ফ্লাড-রেসিস্ট্যান্ট’ স্কুল: চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বন্যা সহনশীল বা ভাসমান স্কুল (যেমন: বোট স্কুল) তৈরি এবং তা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশেষ বাজেট প্রয়োজন। নদীভাঙনের কবলে পড়া স্কুলগুলোকে দ্রুত অন্য নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে পাঠদান চালু রাখার জন্য একটি আপৎকালীন ও তাৎক্ষণিক ফান্ডের ব্যবস্থা রাখা দরকার।

দুর্গম ভাতা (Hardship Allowance): চরাঞ্চল বা প্রত্যন্ত মফস্বল এলাকায় কর্মরত শিক্ষকদের ধরে রাখতে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা বা ভাতার ব্যবস্থা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

ফ্রি ইন্টারনেট ও ডিভাইস লোন: চরাঞ্চল ও প্রান্তিক এলাকার শিক্ষার্থীরা শহরের শিক্ষার্থীদের চেয়ে অনলাইন সুবিধা এবং ডিজিটাল শিক্ষায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। গ্রামীণ ও চরাঞ্চলের স্কুলগুলোতে হাই-স্পিড ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের স্বল্পমূল্যে বা সহজ কিস্তিতে ডিজিটাল ডিভাইস (ট্যাব/ল্যাপটপ) দেওয়ার জন্য সরকারি বিশেষ অনুদান স্কিম চালু করা উচিত।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিশেষ বাজেট কেন প্রয়োজন?

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি অন্য যেকোনো চলমান বা প্রতিষ্ঠিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। নিজস্ব কোনো অবকাঠামো ও স্থায়ী ভূমি অধিগ্রহণ এখনো চূড়ান্ত না থাকায়, সাধারণ ছক মেনে বাজেট প্রণয়ন করলে নবীন এই বিশ্ববিদ্যালয়টির অগ্রযাত্রা শুরুতেই থমকে যাবে। একটি প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে তাদের বরাদ্দের সিংহভাগ ব্যয় করে পরিচালন খাতে (যেমন: শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও গবেষণা), সেখানে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন মূলধনী ও অবকাঠামোগত বিশেষ বরাদ্দ।

ভূমি অধিগ্রহণের জন্য এককালীন বিপুল অংকের অর্থের প্রয়োজন, যা সাধারণ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (ADP) চেয়ে দ্রুত ছাড়করণযোগ্য হতে হবে। এর পাশাপাশি জমি ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য প্রারম্ভিক থোক বরাদ্দ (Lump-sum Allocation) জরুরি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রকল্প দীর্ঘায়িত হলে যেন খরচ না বাড়ে, সেজন্য বাজেটে একটি বড় অংশ ‘প্রকল্প মূল্যবৃদ্ধি তহবিল’ (Price Escalation Contingency) হিসেবে রাখা আবশ্যক। এছাড়া, কুড়িগ্রামের মতো প্রান্তিক অঞ্চলে দেশের সেরা শিক্ষক, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের ধরে রাখতে হলে ক্যাম্পাসের ভেতরেই মানসম্মত আবাসন ও আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে—যার জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ প্রয়োজন।

২৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি: কুড়িগ্রাম কি চিরকালই বঞ্চিত থাকবে?

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন, “ক্ষুধাতুর শিশু চায় না স্বরাজ, চায় দুটো ভাত একটু নুন।” বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রান্তিক মানুষের জন্য সেই চিরন্তন চাহিদার মতোই অন্যতম জরুরি উপাদান হলো চিকিৎসা সেবা। অথচ রংপুর বিভাগের অন্যতম বৃহৎ ও নদীভাঙনপ্রবণ জেলা কুড়িগ্রামের প্রায় ২৪ লাখ মানুষের উন্নত চিকিৎসার জন্য আজও কোনো মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বিভাগের অন্যান্য জেলার দিকে তাকালে এই আঞ্চলিক বৈষম্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দিনাজপুর (৩৩.৯২ লাখ) ও রংপুরে (৩২.৪৩ লাখ) মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এমনকি কুড়িগ্রামের চেয়ে কম জনসংখ্যার জেলা নীলফামারী (২১.৪১ লাখ) এবং ঠাকুরগাঁওয়েও (১৫.৬৯ লাখ) মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম চলছে। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় কুড়িগ্রামের চিকিৎসাব্যবস্থা কতটা উপেক্ষিত।

বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেলা সদরের একমাত্র সাধারণ হাসপাতালটি ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে। পর্যাপ্ত বিশেষায়িত চিকিৎসক, আধুনিক রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে হাসপাতালটি নিজেই আজ যেন ‘আইসিইউ’-তে যাওয়ার শামিল। জনসংখ্যার এই বিপুল চাপ সামলাতে কুড়িগ্রামের স্বাস্থ্যখাতে প্রচলিত সাধারণ বাজেটের পরিবর্তে অবিলম্বে ‘বিশেষ মূলধনী ও পরিচালন বরাদ্দ’ প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, “স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার, কোনো সুযোগ-সুবিধা নয়।“ প্রান্তিক এই জনপদের মানুষের ঢাকামুখী বা রংপুরমুখী চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্বাবলম্বী করতে কুড়িগ্রামে একটি বিশেষায়িত সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং বাঁচার দাবি।

কুড়িগ্রামের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ বাজেট প্রণয়নের যৌক্তিকতা:

বিশ্বব্যাংকের মতে, “অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলো দারিদ্র্য বিমোচনের সবচেয়ে কার্যকরী চাবিকাঠি।” এই প্রেক্ষাপটে, কুড়িগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থানকে ‘অভিশাপ’ না ভেবে এটিকে ভারত, ভুটান ও নেপালের সাথে যোগাযোগের একটি ‘কৌশলগত প্রবেশদ্বার’ (Strategic Gateway) হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রতি বছর বন্যায় এই জেলার সড়ক ও রেললাইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়; তাই প্রচলিত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বাজেটের পরিবর্তে এখানে প্রয়োজন দুর্যোগ প্রতিরোধী ‘জলবায়ু সহনশীল’ (Climate-Resilient) বাজেট। এর আওতায় যেন সড়ক বন্যায় তলিয়ে না যায়—সেজন্য উঁচু ও আরসিসি (RCC) ঢালাইয়ের দীর্ঘস্থায়ী সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণ করা জরুরি।

পাশাপাশি, নৌপথকে বারো মাস সচল রাখতে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর নাব্যতার সংকট দূরীকরণে প্রতি বছর নিয়মিত ‘ক্যাপিটাল ড্রেজিং’ (Capital Dredging) বাজেট বরাদ্দ করতে হবে, যেন শুষ্ক মৌসুমেও বড় জাহাজ ও ফেরি চলাচল করতে পারে। মূলত, এই প্রান্তিক অঞ্চলের যোগাযোগ খাতকে আমূল বদলে দিতে প্রচলিত সাধারণ বরাদ্দের পরিবর্তে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ও দ্রুত ছাড়করণযোগ্য থোক বরাদ্দ (Lump-sum Allocation) এখন সময়ের দাবি। এই বিশেষ অর্থায়নের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, চিলমারী-রৌমারী রুটে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণ, রেললাইনের আধুনিক রূপান্তর এবং চিলমারী নদীবন্দরকে আন্তর্জাতিক বন্দরে উন্নীত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী মূলধনী বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG-9) অর্জনে কুড়িগ্রামকে দেশের মূল অর্থনৈতিক স্রোতধারার সাথে যুক্ত করতে এই কৌশলগত বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি।

কুড়িগ্রামের টেকসই উন্নয়নে ‘নদী ভাঙন রোধ’ নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী ‘নদী শাসন’

কুড়িগ্রামের ভৌগোলিক ও হাইড্রোলজিক্যাল বাস্তবতাকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে এটি স্পষ্ট যে, সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য সাময়িক ‘নদী ভাঙন রোধ’-এর চেয়ে সুদূরপ্রসারী ‘নদী শাসন’ (River Training) এবং এর জন্য দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দ করা অপরিহার্য। বর্তমানে নদীগুলো নিয়মিত ড্রেজিং না করায় তলদেশে পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে বিপুল জলরাশি ধারণ করতে না পেরে নদীগুলো গতিপথ পরিবর্তন করছে এবং পাড় ভেঙে নতুন নতুন জনপদ গ্রাস করছে। নদী শাসনের মাধ্যমে নদীর নাব্য ও গভীরতা বাড়ানো সম্ভব হলে পানি একটি সুনির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত পথ দিয়ে প্রবাহিত হবে।

ওলন্দাজ বা ডাচদের একটি বিখ্যাত প্রবাদ আছে: “ঈশ্বর পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, আর ডাচরা সৃষ্টি করেছে নেদারল্যান্ডস।” সমুদ্র ও নদীর করাল গ্রাস থেকে ড্রেজিং এবং দীর্ঘমেয়াদী নদী শাসনের (Delta Plan) মাধ্যমেই তারা আজ নিজেদের পৃথিবীর অন্যতম উন্নত ও নিরাপদ দেশে রূপান্তরিত করেছে। কুড়িগ্রামের নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও আমাদের এমন দূরদর্শী ও বৈজ্ঞানিক চিন্তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

প্রকৃতপক্ষে, কুড়িগ্রামের নদীগুলো এই অঞ্চলের জন্য কোনো ‘অভিশাপ’ নয়; সঠিক ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার অভাবেই এগুলো আজ ধ্বংসাত্মক রূপ নিয়েছে। তাই প্রতি বছর জোড়াতালির বাজেট দিয়ে অর্থের অপচয় না করে, নদীকে স্থায়ীভাবে শাসনে এনে নাব্য ফিরিয়ে আনার জন্য ১০ থেকে ২০ বছর মেয়াদী একটি বিশেষ কৌশলগত মেগা-প্রকল্প বাজেট প্রয়োজন। কুড়িগ্রামের নদীগুলো সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হলে জেলার ২৪ লাখ মানুষের জীবনযাত্রারই আমূল পরিবর্তন ঘটবে না, বরং নদী শাসন থেকে পুনরুদ্ধারকৃত বিপুল জমি ও সচল নৌ-বাণিজ্য জাতীয় অর্থনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও যুগান্তকারী অবদান রাখবে।

লেখক: অধ্যক্ষ (পিআরএল), কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ, কুড়িগ্রাম।