লেখক: ফজলুল করিম ফারাজী: পর্ব-১
রাজনীতিতে মতের পার্থক্য স্বাভাবিক, কিন্তু মতের পার্থক্যকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় রূপ দেওয়া কোনো সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা নয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কুড়িগ্রামে এখন আদর্শের চেয়ে ব্যক্তি, সংগঠনের চেয়ে বলয়, আর রাজনীতির চেয়ে গ্রুপিং বেশি আলোচিত হচ্ছে।নামে বেনামে গুপ্ত আইডি থেকে হিউমার ছড়াচ্ছে।যেটা বিগত সময়ে কোন দলের মধ্যে ছিল কিনা মনে পড়ে না।তবে থাকলেও পারস্পরিক সমঝোতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেই থাকতো।এখন দেখছি ভিন্নতা চলে এসেছে।দলীয় কোন্দল নাকি ব্যক্তিক্ষোভ? যাই হোক এই চর্চা পৌছে গেছে তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে।এইসব অপকান্ডের কারিগর খুব বেশি হয় না। মাত্র গুটি ৪/৫ জন সুবিধাবাদী ব্যাক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।কেননা এনারাও সিনিয়রটির যোগ্যতায় জুনিয়রদের বশ করে থাকেন।তবে কৌশলগত ভাবে এদের মধ্যে কেউ দল শক্তিশালী করার কথা বলেন, আবার আড়ালে বিভাজনের রাজনীতি করেন। কেউ ঐক্যের কথা বলেন, অথচ ভিন্নমত দেখলেই তাকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলেন। পান থেকে চুন খসলেই শুরু হয় নানান নাট্যাভিনয়। এদের মধ্যে কেউ কেউ বঞ্চিতদের অধিকারের কথা বলে পাশে দাঁড়ান, আবার প্রয়োজন ফুরালেই তাদের অস্তিত্ব ভুলে যান। এভাবে রাজনীতি হয়তো কিছুদিন টিকে থাকতে পারে, কিন্তু নেতৃত্ব টিকে থাকে না।
কেননা রাজনীতি কখনো তেলবাজি, অপপ্রচার কিংবা চরিত্রহননের নাম নয়। রাজনীতি হলো কর্ম, ত্যাগ, সহনশীলতা ও মানুষের আস্থা অর্জনের বিষয়। যারা মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করেন, তারা হয়তো সাময়িকভাবে সফল হন, কিন্তু ইতিহাসে তাদের স্থান হয় না।এমন দৃষ্টান্ত কারো অজানা নয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নতুন প্রজন্ম রাজনীতিকে আদর্শের জায়গা থেকে নয়, গ্রুপিং আর প্রতিহিংসার জায়গা থেকে দেখতে শুরু করেছে। এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, পুরো রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্যই অশনিসংকেত।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক শত্রু থাকা উচিত নয়। মতের বিরোধ থাকবে, কিন্তু ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নয়। কারণ দল বড় হয় ঐক্যে, বিভক্তিতে নয়; নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় কর্মে, কৌশলী ষড়যন্ত্রে নয়।
অতএব, অন্যের ভুল খোঁজার আগে নিজেদের রাজনৈতিক আচরণ পর্যালোচনা করা জরুরি। রাজনীতিকে যদি ব্যক্তিস্বার্থের হাতিয়ার না বানিয়ে জনস্বার্থের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তবেই সংগঠন শক্তিশালী হবে, নেতৃত্ব গ্রহণযোগ্য হবে এবং আগামী প্রজন্ম একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি পাবে।
ফজলুল করিম ফারাজী,
কুড়িগ্রাম।
