ভলান্টিয়ার (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। বৃহস্পতিবার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া, চিলমারী ও হাতিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে হাতিয়া পয়েন্টে ৬৯ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৬৩ ও চিলমারী পয়েন্টে ৬৩ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা, বাড়ি ঘরে পানি উঠায় উঁচু জায়গায় স্থান নিচ্ছেন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের প্রায় ৮০ হাজারের বেশী মানুষ। পানিতে ডুবে গেছে এসব এলাকার অনেক গবাদিপশু সহ ফসলি জমি।
কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর, ফুলবাড়ি এবং রাজারহাট উপজেলার প্রায় ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বন্যা পরিস্থিতির অবনতির ফলে গত তিনদিন ধরে ঘরের ভেতর মাচা ও চৌকি উঁচু করে আশ্রয় নিয়েছেন বানভাসি মানুষ। চৌকিতে রান্না-বান্না, চৌকিতেই রাত কাটছে তাদের। বাড়ির চারপাশে থৈথৈ পানিতে অসহায় দিন কাটছে বয়স্ক নারী পুরুষ, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের।
কুড়িগ্রামের নুনখাওয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আউয়াল জানান, তার বাড়িতে পানি উঠেছে খুব কষ্ট করে জীবন যাপন করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও স্বল্প মেয়াদি বন্যা বিরাজ করবে।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরিফ বলেন, ‘বন্যা কবলিত কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী, উলিপুর ও নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, রৌমারী, রাজীবপুর, রাজারহাট উপজেলায় খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ শুরু করা হয়েছে। বুধবার এক হাজার ২শ’ পরিবারকে ১০ কেজি করে চালসহ অন্যান্য সামগ্রি বিতরণ করা হয়।’
