ভলান্টিয়ার প্রতিনিধি: মেগাসিটি ঢাকায় বাস করেন সমগ্র দেশের আটভাগের একভাগ মানুষ। সর্ববৃহৎ জনসমষ্টির পদভারে মুখরিত এই জনপদের পরিবেশ ও প্রকৃতিবান্ধব একটি বাসযোগ্য আনুকূল্য এখানকার প্রতিটি বাসিন্দার একান্ত কাম্য। নূন্যতম মানবিক বাসযোগ্যতা সমগ্র জাতির বাসিন্দাদের স্বপ্নও বটে। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অতিতের রাজনৈতিক সরকার সমুহ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য সফলতা দেখাতে পারেনি।

আজ সেই কাঙ্খিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের বীজ বপন করা হয়েছে। দেশের সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সরকারি দপ্তর বনবিভাগ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এর মাঝে স্বাক্ষরিত হলো সেই অধরা স্বপ্ন বাস্তবে রুপদানের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক। বনবিভাগের নিজস্ব সরকারি বাজেটে অথবা সিটি করপোরেশনের বরাদ্দ হতে এই নগরীর পরিবেশ, প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য, ইকোসিস্টেম, নান্দনিকতা ও সবুজের সমারোহ গড়ে তোলা হবে। সম্ভাব্য সকর স্থানে বৃক্ষ রোপণ করা, নগরীর সবুজায়নের পরিমান কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা, জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা ছাড়াও জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ বিপর্যয় রোধ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ধুলাবালুর পরিমান কমানো ও এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সকে সন্তোষজনক মাত্রায় উন্নীত করার লক্ষ্যে ঢাকাবাসীর স্বর্থে এই চ্যালেঞ্জ সাহসিকতার সাথে গ্রহণ করেছে বনবিভাগ।

বহুমাত্রিক স্বার্থের ঘোরটোপে নগরীর পরিবেশ আজ মারাত্মক বিপর্যস্থ। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স প্রতিবেদনে ঢাকা মহানগরীর অবস্থা বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষতির মূখে। সরকারি বেসরকারি নানান উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখাতে পারেনি। কিন্তু সময়ের সাহসী মানুষ সংগ্রামী পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণের লড়াকু সৈনিক সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয়ের হাতধরে আজ নতুন স্বপ্নের কাঙ্খিত বাস্তবায়নের পথে হাটতে শুরু করেছে বনবিভাগ।

বন অধিদপ্তরের পক্ষে প্রধান বন সংরক্ষক জনাব মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরী এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন পক্ষে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। এসময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রশাসক জনাব মোঃ এজাজ সহ বন অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।

লেখক: ড. মোঃ মোল্লা রেজাউল করিম
বন সংরক্ষক, চট্টগ্রাম অঞ্চল।