ভলান্টিয়ার প্রতিনিধি: “মস” প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেমের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের মূল্য অনস্বীকার্য। তবে সরাসরি এর ইকোনমিক ব্যবহার এখনো শুরু হয়নি ব’লে মানুষ এর গুরুত্ব অনুধাবন করে না। প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেমে মস না থাকলে স্বাভাবিক পরিবেশ ঠিক থাকবেনা এবং জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য ও শৃঙ্খলা মারাত্মক ভাবে ভেঙে পড়বে। মহান আল্লাহ তার অনবদ্য ও সুস্থিত সৃষ্টি বিন্যাসের সামঞ্জস্যতা বিধানে মসকে অতিমূল্যবান করে সৃষ্টি করেছেন।

বনে বা চারণভূমিতে অথবা পাথুরে পরিবেশে কখনোবা দেওয়ালের গাঁয়ে লেগে থাকা কার্পেট সদৃশ্য উদ্ভিদের নাম “মস”। অনেকে একে শ্যাওলা বলে ভুল করেন। সমগ্র পৃথিবীর প্রায় ৯.৪ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার জুড়ে মস উদ্ভিদ জন্মায় যা প্রায় চীনের ভূখন্ডের সমান। মস একটি অত্যন্ত অবমূল্যায়িত উদ্ভিদ, যা পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপকার নিয়ে আসে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মস-আচ্ছাদিত অঞ্চল খালি জমির তুলনায় বিলিয়ন টন বেশি কার্বন সংরক্ষণ করতে পারে, যা একে কার্বন ধরে রাখার একটি শক্তিশালী মাধ্যম করে তোলে। মস তার জীবনবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে ভুমিকা রাখে এবং মাটির অবক্ষয় রোধ করে। তাছাড়া মাটির গঠন বিন্যাসনপরিবর্তন সহ মাটির স্তর সৃষ্টিতে মস অনবদ্য ভূমিকা পালন করে।

অধিকাংশ গাছপালার বিপরীতে, মস মাটি ছাড়া বেড়ে উঠতে পারে এবং দেয়াল, ছাদ ও শহরের অন্যান্য পৃষ্ঠে জন্মাতে পারে, যা নগরায়নের জন্য একে আদর্শ করে তোলে।

নগর এলাকায় মস তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে এবং এটি CO₂ ও সূক্ষ্ম ধূলিকণা শোষণ করতে পারে, ফলে বাতাসের মান উন্নত হয়। এছাড়া এটি জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখতেও সহায়ক।

তবে এসব উপকারের পরেও, দর্শনগত পছন্দের কারণে নির্মাণ বা ল্যান্ডস্কেপিংয়ের সময় মস প্রায়ই সরিয়ে ফেলা হয়। শহর পরিকল্পনায় মসকে অন্তর্ভুক্ত করা জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা, দূষণ হ্রাস, এবং আরও সুস্থ বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মানব সভ্যতার প্রয়োজনে মস প্রজাতি সমুহের ইকোনমিক ব্যবহার নিঃসন্দেহে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবে। সেজন্য এর টেকসই ব্যবহার, উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার সন্নিবেশন করা জরুরি। সেই লক্ষ্যে সময়োচিত গবেষণার কোন বিকল্প নেই। বিস্তৃত গবেষণার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সৃষ্ট এই নেয়ামত মানব কল্যানে ব্যবহার নিশ্চিত করে বিশ্ব সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করার সকল সম্ভাবনা উন্মোচন করার আশাবাদ ব্যক্ত করি।

লেখক: ড. মোঃ মোল্লা রেজাউল করিম
বন সংরক্ষক, চট্টগ্রাম অঞ্চল