কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: বাংলাদেশের তৃণমূল ফুটবলের কথা উঠলে কিছু মানুষের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। তাঁদেরই একজন জালাল হোসেন লাইজু। যিনি নিজের জীবন, সময় ও স্বপ্ন উৎসর্গ করেছেন ফুটবলের জন্য। কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শত শত কিশোরের চোখে ফুটবল স্বপ্ন জাগিয়ে তোলার পেছনে যাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

উত্তরবঙ্গের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে জালাল হোসেন লাইজু শুধু একজন সংগঠক নন, তিনি একজন স্বপ্নসারথি, একজন অভিভাবক, একজন নিরলস যোদ্ধা। অনেকেই তাঁকে তৃণমূলের ফুটবলারদের অভিভাবক বলে অভিহিত করেন। কারণ, নিজের ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের চেয়ে তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন গ্রামের মাঠে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে।

কুড়িগ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছেন লাইজু কিডস ফুটবল একাডেমি। এই একাডেমিকে ঘিরেই আজ শতাধিক কিশোর ফুটবলারের স্বপ্নের পথচলা। প্রতিদিন নিয়মিত প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে গড়ে উঠছে আগামী দিনের ফুটবল তারকারা। দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রামের ফুটবল উন্নয়নে কাজ করে যাওয়া এই মানুষটির হাত ধরেই অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার দেশের বিভিন্ন নামকরা ক্লাব ও একাডেমিতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

জালাল হোসেন লাইজুর একটি স্বপ্ন, একটি দর্শন, একটি স্লোগান রয়েছে—

“একটি বল, একটি গ্রাম; ফুটবল নগরী কুড়িগ্রাম।”

এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি শুধু একটি একাডেমি গড়েই থেমে থাকেননি। কুড়িগ্রামে ফুটবল উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সংগঠন ও উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিষ্ঠা করেছেন লাইজু কিডস ইউনিট, যেখানে তৃণমূলের প্রতিভাবান ফুটবলাররা নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। তাঁর এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে হাজারো কিশোরের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।

অনেকেই বড় ক্লাব, বড় মঞ্চ কিংবা আলোচিত পদ-পদবির পেছনে ছুটে বেড়ান। কিন্তু জালাল হোসেন লাইজু বেছে নিয়েছেন অন্য এক পথ। তিনি থেকে গেছেন গ্রামের মাঠে, শিশুদের পাশে, ফুটবলের শেকড়ের কাছে। হয়তো জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি তৃণমূলের ফুটবলারদের নিয়েই বেঁচে থাকতে চান। তাঁদের হাসি, সাফল্য আর স্বপ্ন পূরণেই খুঁজে পান নিজের আনন্দ।

একদিন হয়তো অনেকেই তাঁর নাম ভুলে যাবে, কিন্তু তিনি যেসব ফুটবলার তৈরি করেছেন, যেসব স্বপ্নের বীজ বপন করেছেন, সেগুলো বেঁচে থাকবে যুগের পর যুগ। কুড়িগ্রামের অসংখ্য তরুণ ফুটবলারের চোখে তিনি একজন নায়ক, একজন পথপ্রদর্শক, একজন অনুপ্রেরণার নাম।

ফুটবলের প্রতি এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, এমন আত্মত্যাগ এবং এমন অদম্য সংগ্রাম সত্যিই বিরল। তাই কুড়িগ্রামের মাটি যতদিন ফুটবল ভালোবাসবে, ততদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে একটি নাম— জালাল হোসেন লাইজু।

গ্রামীণ ফুটবলের এই নীরব বিপ্লবীকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও স্যালুট। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আপনার স্বপ্নের পথচলা আরও অনেক দূর এগিয়ে যাক।

স্যালুট জালাল হোসেন লাইজু। স্যালুট তৃণমূল ফুটবলের অক্লান্ত সৈনিককে।