লেখক: প্রফেসর কাজী শফিকুর রহমান
৩রা জুলাই ২০২৬ খ্রি. লালমনিরহাটের মানুষের জন্য একটি স্মরণীয় দিন। মাননীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী জনাব মো. আসাদুল হাবিব দুলুর উদ্যোগে ডা. সেলিমা ডায়াবেটিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে আধুনিক কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটের উদ্বোধন হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার এই উদ্যোগে এখন লালমনিরহাটসহ আশপাশের জেলার অনেক কিডনি রোগী নিয়মিত ডায়ালাইসিসের জন্য আর রংপুর কিংবা ঢাকায় ছুটতে বাধ্য হবেন না। এতে সময়, অর্থ এবং দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। এই মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিক অভিনন্দনের দাবিদার।
কিন্তু ঠিক পাশের জেলা কুড়িগ্রামের বাস্তবতা এখনো ভিন্ন।
নয়টি উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রামের বিপুল জনগোষ্ঠী আজও আধুনিক ডায়াবেটিস ও কিডনি চিকিৎসার কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অনেক রোগীকেই চিকিৎসার জন্য নিয়মিত রংপুর কিংবা ঢাকায় যেতে হয়। অর্থের অভাবে অনেক পরিবার এই ব্যয় বহন করতেই হিমশিম খায়। চিকিৎসার কষ্টের সঙ্গে যুক্ত হয় দীর্ঘ যাত্রার দুর্ভোগ।
আমি কুড়িগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির একজন সাবেক সদস্য হিসেবে খুব কাছ থেকে দেখেছি, একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক ডায়াবেটিক হাসপাতাল এই জেলার মানুষের কত বড় প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর পরিচালনা কমিটি না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নও ব্যাহত হচ্ছে। কুড়িগ্রামের মানুষের স্বার্থে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা কমিটি গঠন এবং হাসপাতালের উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীল করা সময়ের দাবি।
লালমনিরহাটের এই সফলতা আমাদের নতুন আশা দেখায়। এখন সময় এসেছে কুড়িগ্রামের প্রতিও একই আন্তরিকতা ও গুরুত্ব দেওয়ার।
কুড়িগ্রামের নয়টি উপজেলার মানুষের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক ডায়াবেটিক হাসপাতাল, কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হোক।
স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়।
এটি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার এবং মানবিক প্রয়োজন।
প্রফেসর (এলপিআর) কাজী শফিকুর রহমান
