কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নে প্রায় ৬০০ জন তরুণ ও শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে মাদকের কুফল ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে আল-জাযা ইউনিটি ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে এ সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তরুণ সমাজকে মাদক, কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে একটি সুশৃঙ্খল, মানবিক ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়। সভায় মাদকের ভয়াবহতা, কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে পড়ার ক্ষতিকর দিক এবং তরুণদের ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক জনাব মোঃ সোহেল হোসেন কায়কোবাদ। বক্তব্যে তিনি তরুণদের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “যেসব আয়োজন আমাদের উদ্যোগে করার কথা ছিল, সেগুলো তোমরাই তরুণরা প্রমাণ করে দেখিয়েছো। এই তরুণদের হাতেই পরিবর্তন সম্ভব। আমি তোমাদের পাশে সবসময় আছি। তোমাদের সহযোগিতার জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা।”
অনুষ্ঠানে আল-জাযা ইউনিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও সভাপতি মোঃ খাইরুল ইসলাম বলেন, “তরুণ সমাজকে মাদক এবং কিশোর গ্যাং থেকে দূরে রাখতে আল-জাযা ইউনিটি ফাউন্ডেশন সবসময় বদ্ধপরিকর থাকবে। আমরা তরুণ যুবকদের নিয়ে এই সমাজের পরিবর্তন আনবো, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, তরুণদের শক্তি, মেধা ও সময়কে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে মানবিক ও সামাজিক কাজে কাজে লাগাতে হবে। এজন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করীম রেজা, কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি মহোদয়ের প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, তরুণ-যুবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা তরুণদের মাদক থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি বন্ধু ও সহপাঠীদেরও মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া রোধে পরিবার ও সমাজের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রায় ৬০০ তরুণ ও শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি তরুণদের মানবিক ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
আল-জাযা ইউনিটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “মানবতার সেবায়, আমরা সবসময়”—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তরুণ সমাজকে সঙ্গে নিয়ে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
