ভলান্টিয়ার প্রতিনিধি: দলীয় প্রতীক রাজনৈতিক দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দলের জন্ম, উত্থান, সমসাময়িক পরিবেশ, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, দলীয় আদর্শ, সংগ্রাম, আন্দোলন প্রভৃতির উপর নির্ভর করে দলীয় প্রতীক নির্ধারণ করা হয়। দলীয় প্রতীক দল নিজে ঠিক করবে এটাই স্বাভাবিক। ইতোপূর্বে সেটাই করেছে রাজনৈতিক দলগুলো, যেমন: নৌকা, ধানের শীষ, লাঙ্গল, দাঁড়িপাল্লা, মশাল, গরুরগাড়ি, বাইসাইকেল, ছাতা, রিক্সা প্রতীকগুলো নিজ নিজ দল নির্ধারণ করেছে; এগুলো জনপ্রিয় মার্কাও বটে। এরপর নির্বাচন কমিশন এসব দলের নিবন্ধন দিয়েছে; প্রতীকও বরাদ্দ করেছে। কিন্তু বর্তমানে চাইলেও কোন রাজনৈতিক দল নিজ পছন্দমত দলীয় প্রতীক নির্ধারণ করতে পারে না।
নিজ দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে হলে দলের নিবন্ধন নিতে হয়; নিবন্ধনের সময় দলীয় নির্বাচনী প্রতীকসহ আবেদন করতে হয়। যেকোন রাজনৈতিক দলের জন্য নির্বাচনী প্রতীকের মিনিং থাকতে হয়; সাধারণ জনগণের নিকট সহজে পরিচয়যোগ্য হতে হয়। এরপর ধীরে ধীরে জনগণের নিকট দলীয় প্রতীক জনপ্রিয় হয়ে উঠে। কিন্তু বর্তমানে চাইলে কোন রাজনৈতিক দল নিজ পছন্দমত দলীয় প্রতীক নিতে পারবেন না; বরং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তালিকাভূক্ত প্রতীকগুলো থেকে দলীয় প্রতীক মনোনীত করতে হবে। ২০১৭ সালে নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত প্রতীকগুলোর মধ্যে অবশিষ্ট রয়েছে ২৩ টি প্রতীক:
১) আপেল ২) মাথাল ৩) রকেট ৪) নোঙর ৫) একতারা ৬) চাবি ৭) তরমুজ ৮) ফুলকপি ৯) মোটরগাড়ি (কার) ১০) বেলুন ১১) কলার ছড়ি ১২) কুমির ১৩) কুড়াল ১৪) খাট ১৫) ঘন্টা ১৬) ট্রাক ১৭) তবলা ১৮) দাবা বোর্ড ১৯) দালান ২০) বাঁশি ২১) বেঞ্চ ২২) শঙ্খ ২৩) স্যুটকেস
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তালিকাভূক্ত ৬৪ টি নির্বাচনী প্রতীক ইতোমধ্যে ৩৯ টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে বন্টিত হয়েছে। যেমন- ১) আম-এনপিপি ২) উদীয়মান সূর্য – গণফোরাম ৩) কবুতর- গণতন্ত্রী পার্টি ৪) কাঁঠাল- বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ৫) কাস্তে- সিপিবি ৬) কুলা-বিকল্প ধারা ৭) কুড়ে ঘর- ন্যাপ আমিনা ৮) কোদাল- বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ৯) খেজুর গাছ- জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম ১০) গরুর গাড়ী -বিজেপি ১১) গাভি- বাংলাদেশ ন্যাপ ১২) গামছা- কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ১৩) গোলাপফুল- জাকের পার্টি ১৪) চাকা- সাম্যবাদী দল ১৫) চেয়ার- ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ১৬) ছড়ি-সংস্কৃতি মুক্তিজোট ১৭) ছাতা- এলডিপি ১৮) টেলিভিশন- বিএনএফ ১৯) ডাব-বাংলাদেশ কংগ্রেস ২০) তারা-জেএসডি ২১) দেয়াল ঘড়ি- খেলাফত মজলিশ ২২) ধানের শীষ-বিএনপি ২৩) নৌকা-আ’লীগ ২৪) ফুলের মালা- তরিকত ফেডারেশন ২৫) বাঘ- পিডিপি ২৬) বটগাছ- খেলাফত আন্দোলন ২৭) বাইসাইকেল -জেপি ২৮) মই-বাসদ ২৯) মশাল-জাসদ ৩০) মিনার-ইসলামী ঐক্যজোট ৩১) মোমবাতি- ইসলামী ফ্রন্ট ৩২) রিক্সা- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ৩৩) লাঙ্গল-জাতীয় পার্টি ৩৪) সিংহ- এনডিএম ৩৫) হাতঘড়ি-কল্যাণ পার্টি ৩৬) হাতপাখা- ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ৩৭) হাতুড়ি-ওয়ার্কার্স পার্টি ৩৮) হারিকেন- মুসলিম লীগ ৩৯) হুক্কা- জাতীয় গনতন্ত্রী পার্টি
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের বাইরে কতকগুলো প্রতীক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে যেগুলো কোন রাজনৈতিক দলের দলীয় প্রতীক হতে পারে; কিন্তু এগুলো নির্বাচন কমিশনে তালিকাভূক্ত নয়। যেমন: ১) মোবাইল ফোন ২) মোটর সাইকেল ৩) চশমা ৪) পদ্মফুল ৫) সূর্যমুখী ফুল ৬) বই ৭) দোয়াত কলম ৮) আনারস ৯) ফুটবল ১০) ফুলের তোরা
নির্বাচন কমিশন আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য ইতোমধ্যে গণবিজ্ঞপ্তি জারী করেছে, ২৯ আগস্টের মধ্যে নিবন্ধনের আবেদনেও করতে হবে। অথচ নির্বাচন কমিশন চাইলে নতুন কিছু প্রতীকও তালিকাভূক্ত করতে পারে!
কোন রাজনৈতিক দলের প্রতীক নিছক নির্বাচনী প্রতীক নয়; বরং দলীয় প্রতীক দলের উত্থান, ইতিহাস, ঐতিহ্য, আদর্শের প্রতীক। দলীয় প্রতীক ও নির্বাচনী প্রতীক এক নয়। যেকোন প্রতীকে নির্বাচন করা যায়, কিন্তু যেকোন প্রতীককে দলীয় প্রতীক করা যায় না। নির্বাচন কমিশনের উচিত বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা এবং সেই সাথে রাজনৈতিক দলের নিজ পছন্দমত দলীয় প্রতীক নির্ধারণের সুযোগ দেয়া। কারণ “কদু” মার্কায় নির্বাচন করা যায়, কিন্তু “কদু” কোন দলের প্রতীক হতে পারে না!
ধন্যবাদন্তে–
অ্যাড. সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী
এলএল.বি (অনার্স); এলএল.এম (ঢাবি)
সহ-আহবায়ক, গণঅধিকার পরিষদ-জিওপি
সহ-সমন্বয়ক, আইনজীবী অধিকার পরিষদ
