কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: আশার আলো পল্লী উন্নয়ণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে স্বপ্ন ফাউন্ডেশন স্কুলের শিক্ষক নিয়োগের নামে দুই কোটির অধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে দিনের পর দিন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নেদারল্যান্ডস এর একটি দাতা সংস্থার নামে আশার আলো পল্লী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আজিজার রহমান ২০১৭- ২০১৮ ইং অর্থ বছরে স্বপ্ন ফাউন্ডেশন স্কুলের নামে ৭৫ লক্ষ টাকার একটি চেক ও ৫৬ সেট বই দেখিয়ে কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ভেন্যু নির্ধারন করে কিছু বেকার যুবক-যুবতীকে চাকুরীর দেওয়ার কথা বলে ২২ হাজার টাকা মাসিক বেতন দেয়ার শর্তে সাতজন সুপারভাইজারের নিকট জনপ্রতি ১ লক্ষ টাকা হিসেবে মোট ৭ লক্ষ টাকা নেন । মাসিক বেতন ১৪ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলে ৫৬ জন প্রধান শিক্ষকের নিকট ৪৪ লক্ষ ৮০ হাজার, মাসিক বেতন ১২ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলে ২শত ২৪ জন সহকারী শিক্ষকের নিকট ১ কোটি ৭৯ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, মাসিক বেতন ৬ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলে ৫৬ জন আয়ার নিকটও আনুপাতিক হারে টাকা নেন ।
স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের নামে স্কুলের ২০১৮ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে ৪ মাস নিরবিচ্ছিন্নভাবে ক্লাস চললেও কর্মরতদের কোন বেতন দেয়নি কর্তৃপক্ষ। কোন বৈধ অনুমোদন না থাকায় ঐ বছরের এপ্রিল মাসে স্কুলগুলি বন্ধ করে দেয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
এটি জানতে পেয়ে ভুক্তভোগীরা নাগেশ্বরীর ঐ সংস্থার কার্যালয়ে গিয়ে পরিচালকের কাছে তাদের ডোনেশনের টাকা চাইলে তিনি তা ফেরতের আশ্বাস দিলেও ভুক্তভোগীরা আজও তাদের সেই টাকা ফেরৎ পায়নি বরং এখন ঐ অফিসটিরও কোন হদিস নেই। তাই টাকা ফেরতের আশায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রধান শিক্ষক আবু মোস্তফা কামাল, ইউসুফা আক্তার, আতাউর রহমান, হাশেম আলী, পেয়ারা খাতুন, আব্দুল কাইয়ুম, শফিকুল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম, শাহিন আলম, মইনুল ইসলাম, রহিমা বেগম, সহিদুল ইসলামসহ অনেকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
আশার আলো পল্লী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আজিজার রহমান জানান, ‘স্বপ্ন ফাউন্ডেশন স্কুলে জনবল নিয়োগে কোন টাকা পয়সার লেনদেন হয়নি আমার বিরুদ্ধে আনা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।’
