ভলান্টিয়ার (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: এক ঘনিষ্ট জনের সদ্য জন্ম নেয়া শিশুসন্তানটি খুব অসুস্থ। তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করিয়েছেন ক্লিনিকে দেখানো শিশু ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। দেখতে গিয়েছিলাম। ওয়ার্ডে এ্যা-তো গরম টিকতে পাচ্ছিলামনা, মনে হচ্ছে আগুনের মাঝে রয়েছি। ডিউটিরত দু’জন নার্স বারান্দায় বসে কাজ করছেন, বললাম ডাক্তার কখন রাউন্ড দেবেন- কোন ডাক্তার রোস্টারে রয়েছেন, ওয়ার্ডে শিশু ও মায়েরা গরমে কষ্ট পাচ্ছে এসি চলছে না, একটু ব্যবস্থা করা যায় কি-না! তেনারা বেশ বিরক্তের স্বরে বললেন ডাক্তার কখন আসবেন – কে রোষ্টারে আছেন এ সম্পর্কে কিছু জানেন না, আর এসি নষ্ট । পরিস্কার আলাপ।…. অবশেষে এমার্জেন্সিতে পরিচিত জনের কাছে কোনভাবে জানলাম রোস্টার ডাক্তারের নাম। ফোনে পেলাম না। ছুটলাম আরএমও এবং তত্বাবধায়কের সন্ধানে যে ক্লিনিকে তারা বসেন। পেলাম না। ফোনেও পাইনি। আমার সাথে সন্ধ্যাদি ছিলেন,উনি মানিকভাইকে বিশেষকরে শিশু ওয়ার্ডের অসম্ভব গরমের কথা ফোনে বললেন। দুটো ক্লিনিক ঘোরা শেষে হাসপাতালে ফিরে দেখলাম নষ্ট এসি চলছে। জানলাম মানিকভাই ফোনে জানিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ককে।…… ধন্যবাদ মানিকভাইকে।

সদ্য জন্ম নেয়া ও ছোট্ট ছোট্ট নিস্পাপ অবুঝ শিশুদের ব্যাপারে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন –
১. জেলার একটি হাসপাতালে ডাক্তার রাউন্ড দেবেন না কেন?… সিরিয়াস অবস্থারত শিশু ওয়ার্ডে?
২. তথ্য জানার অধিকার সবার। কিন্তু সেখানে কো-ন তথ্য পেলাম না কেন?
৩. শিশু ওয়ার্ডে জানালা নেই, কিন্তু এসি সর্বক্ষণ চলবেনা কেন? সেখানে কি এই অব্যবস্থাপনা নিয়মিত?
৪. ডিউটি ডাক্তার আসবেন না। তাহলে দায়িত্বরত কারা এই শিশুদের জন্য?
৫. নার্সদের অসত্য তথ্য দিতে হয় কেন? আচরণ কেন রুক্ষ তাদের? কাজের চাপ বেশী?…. কোন তথ্য কেন্দ্র?
৬. কেন তত্বাবধায়ককে বলার পর এসি চালাতে হয়?
৭. রোগাক্রান্ত মানুষ চিকিৎসার জন্য -সেবার জন্য হাসপাতালে যায়। সেখানে এতো এতো অবহেলা? অবজ্ঞা? অব্যবস্থাপনা? কেন?
৮. বাজেট ঘাটতি? ডাক্তার নেই? নাকি সেবা দেবার মন নেই? নাকি অসুস্থ শিশুদের বরাদ্দ চুরি? সময় চুরি?

ধন্যবাদন্তে,
সুব্রতা রায়
সভাপতি
সুরধনী গ্রন্থাগার, কুড়িগ্রাম।